কবিতা - বাংলা সাহিত্য পরিষদ - বাংলা সাহিত্য পরিষদ http://banglasp.com Sun, 25 Feb 2018 11:57:03 +0600 Joomla! - Open Source Content Management bn-bd চিন্তা http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/1219-2016-01-09-08-38-13 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/1219-2016-01-09-08-38-13 চিন্তা! চিন্তা!! চিন্তা!!! হাটতে চিন্তা চলতে চিন্তা বসতে চিন্তা উঠতে চিন্তা নিতে চিন্তা দিতে চিন্তা লইতে চিন্তা খাইতে চিন্তা দেখতে চিন্তা ভাবতে চিন্তা পড়তে চিন্তা লিখতে চিন্তা জন্মে চিন্তা গড়তে চিন্তা বিয়ের চিন্তা সংসারের চিন্তা সন্তানের চিন্তা বউয়ের চিন্তা বয়সের চিন্তা মরার চিন্তা সব খানে শুধুই চিন্তা আর চিন্তা।]]> khorshedmoznu@gmail.com (মোঃ খোরশেদ আলম ) কবিতা Sat, 09 Jan 2016 14:37:30 +0600 দিন বদলে সোনার বাংলা http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/1030-2015-09-11-12-28-45 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/1030-2015-09-11-12-28-45 বদলে গেছে রুপ রেখা
বদলে গেছে রীতি
বদলে গেছে সোনার বাংলা
বদলেছে তাঁর নীতি ।

বদলে গেছে আচার আচরণ
বদলে গেছে চিত্র
বদলে গেছে কথার ব্যবহার
বদলে হয়েছে বিচিত্র ।

বদলে গেছে পণ্ডিত মশাই
বদলে গেছে শিক্ষা
বদলে গেছে জাতির বিবেক
বদলেছে তাঁদের কথা ।

বদলে গেছে বিচার আচার
বদলে গেছে প্রথা
বদলে গেছে আমার বাংলা
বদলেছে স্মৃতির পাতা ।]]>
khorshedmoznu@gmail.com (মোঃ খোরশেদ আলম ) কবিতা Fri, 11 Sep 2015 18:27:21 +0600
ঠিকানা http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/594-2015-05-08-18-48-18 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/594-2015-05-08-18-48-18 ঠিকানা আমার চেয়েছ বন্ধু
ঠিকানার সন্ধান,
আজও পাও নি? দুঃখ যে দিলে করব না অভিমান?
ঠিকানা না হয় না নিলে বন্ধু,
পথে পথে বাস করি,
কখনো গাছের তলাতে
কখনো পর্ণকুটির গড়ি।
আমি যাযাবর, কুড়াই পথের নুড়ি,
হাজার জনতা যেখানে, সেখানে
আমি প্রতিদিন ঘুরি।
বন্ধু, ঘরের খুঁজে পাই নাকো পথ,
তাইতো পথের নুড়িতে গড়ব
মজবুত ইমারত।

বন্ধু, আজকে আঘাত দিও না
তোমাদের দেওয়া ক্ষতে,
আমার ঠিকানা খোঁজ ক'রো শুধু
সূর্যোদয়ের পথে।
ইন্দোনেশিয়া, যুগোশ্লাভিয়া,
রুশ ও চীনের কাছে,
আমার ঠিকানা বহুকাল ধ'রে
জেনো গচ্ছিত আছে।
আমাকে কি তুমি খুঁজেছ কখনো
সমস্ত দেশ জুড়ে?
তবুও পাও নি? তাহলে ফিরেছ
ভুল পথে ঘুরে ঘুরে।
আমার হদিশ জীবনের পথে
মন্বন্তর থেকে
ঘুরে গিয়েছে যে কিছু দূর গিয়ে
মুক্তির পথে বেঁকে।
বন্ধু, কুয়াশা, সাবধান এই
সূর্যোদয়ের ভোরে;
পথ হারিও না আলোর আশায়
তুমি একা ভুল ক'রে।
বন্ধু, আজকে জানি অস্থির
রক্ত, নদীর জল,
নীড়ে পাখি আর সমুদ্র চঞ্চল।
বন্ধু, সময় হয়েছে এখনো
ঠিকানা অবজ্ঞাত
বন্ধু, তোমার ভুল হয় কেন এত?
আর কতদিন দুচক্ষু কচ্‌লাবে,
জালিয়ানওয়ালায় যে পথের শুরু
সে পথে আমাকে পাবে,
জালালাবাদের পথ ধ'রে ভাই
ধর্মতলার পরে,
দেখবে ঠিকানা লেখা প্রত্যেক ঘরে
ক্ষুব্ধ এদেশে রক্তের অক্ষরে।
বন্ধু, আজকে বিদায়!
দেখেছ উঠল যে হাওয়া ঝোড়ো,
ঠিকানা রইল,
এবার মুক্ত স্বদেশেই দেখা ক'রো।।]]>
sukanto@banglasp.com (সুকান্ত ভট্টাচার্য) কবিতা Sat, 09 May 2015 00:44:37 +0600
একটি মোরগের কাহিনী http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/593-2015-05-08-18-44-36 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/593-2015-05-08-18-44-36 একটি মোরগ হঠাৎ আশ্রয় পেয়ে গেল
বিরাট প্রাসাদের ছোট্ট এক কোণে,
ভাঙা প্যাকিং বাক্সের গাদায়
আরো দু'তিনটি মুরগীর সঙ্গে।
আশ্রয় যদিও মিলল,
উপযুক্ত আহার মিলল না।
সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে
গলা ফাটাল সেই মোরগ
ভোর থেকে সন্ধে পর্যন্ত-
তবুও সহানুভূতি জানাল না সেই বিরাট শক্ত ইমারত।

তারপর শুরু হল তাঁর আঁস্তাকুড়ে আনাগোনা;
আর্শ্চর্য! সেখানে প্রতিদিন মিলতে লাগল
ফেলে দেওয়া ভাত-রুটির চমৎকার প্রচুর খাবার!

তারপর এক সময় আঁস্তাকুড়েও এল অংশীদার-
ময়লা ছেঁড়া ন্যাকড়া পরা দু'তিনটে মানুষ;
কাজেই দুর্বলতার মোরগের খাবার গেল বন্ধ হয়ে।

খাবার! খাবার! খানিকটা খাবার!
অসহায় মোরগ খাবারের সন্ধানে
বার বার চেষ্টা ক'রল প্রাসাদে ঢুকতে,
প্রত্যেকবারই তাড়া খেল প্রচণ্ড।
ছোট্ট মোরগ ঘাড় উঁচু করে স্বপ্ন দেখে-
'প্রাসাদের ভেতর রাশি রাশি খাবার'!

তারপর সত্যিই সে একদিন প্রাসাদে ঢুকতে পেল,
একেবারে সোজা চলে এল
ধব ধবে সাদা দামী কাপড়ে ঢাকা খাবার টেবিলে ;
অবশ্য খাবার খেতে নয়
খাবার হিসেবে]]>
sukanto@banglasp.com (সুকান্ত ভট্টাচার্য) কবিতা Sat, 09 May 2015 00:37:38 +0600
ছাড়পত্র http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/592-2015-05-08-18-37-36 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/592-2015-05-08-18-37-36 যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে তার মুখে খবর পেলুমঃ সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক, নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে। খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলিত, উদ্ভাসিত কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়। সে ভাষা বোঝে না কেউ, কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার। আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা। পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে। এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের। চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। অবশেষে সব কাজ সেরে আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে করে যাব আশীর্বাদ, তারপর হব ইতিহাস।
]]>
sukanto@banglasp.com (সুকান্ত ভট্টাচার্য) কবিতা Sat, 09 May 2015 00:35:59 +0600
নিমন্ত্রণ http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/505-2015-04-23-07-18-40 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/505-2015-04-23-07-18-40 তুমি যাবে ভাই - যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়; মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়, তুমি যাবে ভাই - যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়, ছোট গাঁওখানি - ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া, কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া; ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী পারের খবর টানাটানি করি; বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া; বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া। তুমি যাবে ভাই - যাবে মোর সাথে, ছোট সে কাজল গাঁয়, গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়। সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া, বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়, বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়! তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে - নরম ঘাসের পাতে চম্বন রাখি অধরখানিতে মেজে লয়ো নিরালাতে। তেলাকুচা-লতা গলায় পরিয়া মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া, হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে, তোমার গায়ের রংখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে। তুমি যদি যাও আমাদের গাঁয়ে, তোমারে সঙ্গে করি নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী। মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া তোর সনে দেই মিতালী করিয়া ঢেলা কুড়িইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি, সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি। তুমি যদি যাও - দেখিবে সেখানে মটর লতার সনে, সীম আর সীম - হাত বাড়াইলে মুঠি ভরে সেই খানে। তুমি যদি যাও সে - সব কুড়ায়ে নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে, খাব আর যত গেঁঢো - চাষীদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে, হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব দুইজনে। তুমি যদি যাও - শালুক কুড়ায়ে, খুব - খুব বড় করে, এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে, কারেও দেব না, তুমি যদি চাও আচ্ছা না হয় দিয়ে দেব তাও, মালাটিরে তুমি রাখিও কিন্তু শক্ত করিয়া ধরে, ও পাড়াব সব দুষ্ট ছেলেরা নিতে পারে জোর করে; সন্ধ্যা হইলে ঘরে ফিরে যাব, মা যদি বকিতে চায়, মতলব কিছু আঁটিব যাহাতে খুশী তারে করা যায়! লাল আলোয়ানে ঘুঁটে কুড়াইয়া বেঁধে নিয়ে যাব মাথায় করিয়া এত ঘুষ পেয়ে যদি বা তাহার মন না উঠিতে চায়, বলিব - কালিকে মটরের শাক এনে দেব বহু তায়। খুব ভোর ক’রে উঠিতে হইবে, সূয্যি উঠারও আগে, কারেও ক’বি না, দেখিস্ পায়ের শব্দে কেহ না জাগে রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে ডানকিনে মাছ কিলবিল করে; কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগে ভাগে সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে। ভর দুপুরেতে এক রাশ কাঁদা আর এক রাশ মাছ, কাপড়ে জড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ। ওরে মুখ-পোড়া ওরে রে বাঁদর। গালি-ভরা মার অমনি আদর, কতদিন আমি শুনি নারে ভাই আমার মায়ের পাছ; যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ। যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়। ঘন কালো বন - মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়। গাছের ছায়ায় বনের লতায় মোর শিশুকাল লুকায়েছে হায়! আজি সে-সব সরায়ে সরায়ে খুজিয়া লইব তায়, যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গায়। তোরে নিয়ে যাব আমাদের গাঁয়ে ঘন-পল্লব তলে লুকায়ে থাকিস্, খুজে যেন কেহ পায় না কোনই বলে। মেঠো কোন ফুল কুড়াইতে যেয়ে, হারাইয়া যাস্ পথ নাহি পেয়ে; অলস দেহটি মাটিতে বিছায়ে ঘুমাস সন্ধ্যা হলে, সারা গাঁও আমি খুজিয়া ফিরিব তোরি নাম বলে বলে।]]> admin1@banglasp.com (জসীমউদ্দীন) কবিতা Thu, 23 Apr 2015 13:11:41 +0600 ব্যর্থ যৌবন http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/503-2015-04-23-07-04-51 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/503-2015-04-23-07-04-51 আজি যে রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে ? কেন নয়নের জল ঝরিছে বিফল নয়নে! এ বেশভূষণ লহ সখী , লহ , এ কুসুমমালা হয়েছে অসহ — এমন যামিনী কাটিল বিরহ শয়নে । আজি যে-রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে । আমি বৃথা অভিসারে এ যমুনাপারে এসেছি । বহি বৃথা মনোআশা এত ভালোবাসা বেসেছি । শেষে নিশিশেষে বদন মলিন , ক্লান্ত চরণ , মন উদাসীন , ফিরিয়া চলেছি কোন্‌ সুখহীন ভবনে! হায় , যে-রজনী যায় ফিরাইব তায় কেমনে ? কত উঠেছিল চাঁদ নিশীথ-অগাধ আকাশে! বনে দুলেছিল ফুল গন্ধব্যাকুল বাতাসে । তরুমর্মর নদীকলতান কানে লেগেছিল স্বপ্নসমান ,]]> admin@banglasp.com (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) কবিতা Thu, 23 Apr 2015 13:00:32 +0600 সোনার তরী http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/502-2015-04-23-06-53-20 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/502-2015-04-23-06-53-20 গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। রাশি রাশি ভারা ভারা ধান-কাটা হল সারা, ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা-- কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা॥ একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা--- চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। পরপারে দেখি আঁকা তরুছায়ামসী-মাখা গ্রামখানি মেঘে ঢাকা প্রভাতবেলা--- এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা॥ গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! দেখে যেন মনে হয়, চিনি উহারে। ভরা পালে চলে যায়, কোনো দিকে নাহি চায়, ঢেউগুলি নিরুপায় ভাঙে দু ধারে--- দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে॥ ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে? বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। যেয়ো যেথা যেতে চাও, যারে খুশি তারে দাও--- শুধু তুমি নিয়ে যাও ক্ষণিক হেসে আমার সোনার ধান কূলেতে এসে॥ যত চাও তত লও তরণী-পরে। আর আছে?--- আর নাই, দিয়েছি ভরে॥ এতকাল নদীকূলে যাহা লয়ে ছিনু ভুলে সকলি দিলাম তুলে থরে বিথরে--- এখন আমারে লহো করুণা ক'রে॥ ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোটো সে তরী আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি। শ্রাবণগগন ঘিরে ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে, শূন্য নদীর তীরে রহি নু পড়ি--- যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী॥]]> admin@banglasp.com (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) কবিতা Thu, 23 Apr 2015 12:52:13 +0600 অনন্ত প্রেম http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/336-2015-03-25-05-52-12 http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/336-2015-03-25-05-52-12 তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার–
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলন কথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া তোমারি মুরতি এসে
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রুবতারকার বেশে।

আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগলপ্রেমের স্রোতে
অনাদি কালের হৃদয়-উৎস হতে।
আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে, মিলনমধুর লাজে–
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।

আজি সেই চির-দিবসের প্রেম অবসান লভিয়াছে,
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ, নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে সকল প্রেমের স্মৃতি–
সকল কালের সকল কবির গীতি।]]>
admin@banglasp.com (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) কবিতা Wed, 25 Mar 2015 11:50:41 +0600
বিদ্রোহী http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/335-bidrohee http://banglasp.com/famous-writers/8-famous-kobita/335-bidrohee বল বীর -
         বল উন্নত মম শির!
শির     নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর!
              বল বীর -
বল     মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
         চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
         ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
         খোদার আসন 'আরশ' ছেদিয়া
              উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর!
মম     ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
              বল বীর -
         আমি চির-উন্নত শির!

আমি     চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-     প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি     মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
              আমি দুর্ব্বার,
আমি     ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি     অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি     দ'লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃংখল!
আমি     মানি নাকো কোনো আইন,
আমি     ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম,
                             ভাসমান মাইন!
আমি     ধূর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি     বিদ্রোহী আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
              বল বীর -
          চির উন্নত মম শির!

আমি     ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণী,
আমি     পথ-সম্মুখে যাহা পাই যাই চূর্ণী!
আমি     নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি     আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।
আমি     হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি     চল-চঞ্চল, ঠুমকি' ছমকি'
          পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি'
          ফিং দিয়া দিই তিন দোল্!
আমি     চপলা-চপল হিন্দোল!

আমি     তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা',
করি      শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
          আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি     মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর।
আমি     শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।
              বল বীর -
         আমি     চির-উন্নত শির!

         আমি     চির-দুরন্ত-দুর্ম্মদ,
আমি     দুর্দ্দম, মম প্রাণের পেয়ালা হর্দ্দম্ হ্যায়্ হর্দ্দম্
                             ভরপুর মদ।
আমি     হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক, জমদগ্নি,
আমি     যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি!
আমি     সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি     অবসান, নিশাবসান।
আমি     ইন্দ্রাণি-সূত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য্য,
মম     এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি     কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি     ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
              বল বীর -
         চির উন্নত মম শির।

আমি     সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক
আমি     যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক!
আমি     বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি     আপনা ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি     বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি     ইস্ত্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি     পিনাক-পাণির ডমরু-ত্রিশূল, ধর্ম্মরাজের দন্ড,
আমি     চক্র ও মহাশঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ-প্রচন্ড!
আমি     ক্ষ্যাপা দুর্বাসা-বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি     দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব!
আমি     প্রাণ-খোলা-হাসি উল্লাস, - আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস,
আমি     মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি     কভু প্রশান্ত, - কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি     অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্প-হারী!
আমি     প্রভঞ্জনের উচ্ছাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি     উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি     উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-ঊর্মির হিন্দোল্ দোল!

আমি     বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি     ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম-উদ্দাম, আমি ধন্যি।
আমি     উন্মন মন উদাসীর,
আমি     বিধাতার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর!
আমি     বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি     অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত
                             বুকে গতি ফের!
আমি     অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত-     চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি     গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক'রে দেখা অনুখন,
আমি     চপল মেয়ের ভালোবাসা, তা'র কাঁকন-চুড়ির কন্-কন্।
আমি     চির-শিশু, চির-কিশোর,
আমি     যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
আমি     উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাসী পূরবী হাওয়া,
আমি     পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীনে গান গাওয়া!
আমি     আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র রবি,
আমি     মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি! -
আমি     তুরিয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি     সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে
                             সব বাঁধ!

আমি     উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি     বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব বিজয় কেতন!
ছুটি     ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
         স্বর্গ-মর্ত্ত্য করতলে,
         তাজি বোরবাক্ আর উচ্চৈস্রবা বাহন আমার
                             হিম্মত-হ্রেস্বা হেঁকে চলে!
আমি     বসুধা-বক্ষে আগ্নেয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি, কালানল,
আমি     পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথর-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি     তড়িতে চড়িয়া উড়ে চলি জোর তুড়ি দিয়া, দিয়া লম্ফ,
আণি     ত্রাস সঞ্চারি ভুবনে সহসা, সঞ্চরি' ভূমি-কম্প!
         ধরি বাসুকির ফনা জাপটি', -
ধরি     স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি'!
         আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি     ধৃষ্ট আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!

              আমি     অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
              মহা-     সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্
         ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্ঝুম্
         মম বাঁশরী তানে পাশরি'
         আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি     রুষে উঠে' যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে     সপ্ত নরক হারিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি     বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি     প্লাবন-বন্যা,
কভু     ধরণীরে করি বরণিয়া, কভু বিপুল ধ্বংস-ধন্যা -
আমি     ছিনিয়া আনিব বিষ্ণু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি     অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি     ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কাল-ফণি!
আমি     ছিন্নমস্তা চন্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি     জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি     মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি     অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি     মানব দানব দেবতার ভয়,
         বিশ্বের আমি চির দুর্জ্জয়,
         জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি     তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ-পাতাল-মর্ত্ত্য
আমি     উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি     চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে
                             সব বাঁধ!!
আমি     পরশুরামের কঠোর কুঠার,
         নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি     হল বলরাম স্কন্ধে,
আমি     উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।

         মহা-     বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
         আমি     সেই দিন হব শান্ত,
যবে     উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
         অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না -
              বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি     সেই দিন হব শান্ত!
আমি     বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন,
আমি     স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব-ভিন্ন!
আমি     বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
         আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন!

         আমি চির-বিদ্রোহী বীর -
আমি     বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!]]>
admin3@banglasp.com (কাজী নজরুল ইসলাম) কবিতা Wed, 25 Mar 2015 11:43:32 +0600