সোমবার, 23 মার্চ 2015 11:07

শেষ চিঠি

লিখেছেন 
ভোট এবং নাম্বার দিনঃ
(3 জন ভোট দিয়েছেন)
	  	
সুজয়িতা,
কতদিন দেখা হয়নি? মনে হয় কালের অবক্ষয়ে
যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকের সংকীর্ণতায়
অনেকটা সংকোচিত হয়ে গেছি আমরা।
তাই শোভনতার ছন্দে দু কলম লিখতে বসলাম।
সুজয়িতা, তোমার প্রতি এ আমার শেষ চিঠি 
জানিনা কী রকম সুমহানতায় দেখবে
আমার এ অছন্দিত কিছু সংকীর্ণ লাইন।
যদি ভুল ক্রটি হয়ে যায়
মনে করিও এ গুলো সেই ছোট বেলার
কানামাছি কিংবা চুর পুলিশ খেলার মতন
কাল্পনিক একটা কিছু।
ভেংগে পড়া নদীর তীরের মতন জীবন আজ
জানিনা কখন কালের লুকান্তরে হারাবো সব কিছু
হয়তো তাই এ লিখা?
সুজয়িতা দিন যতই বাড়ছে
মনে হয় বুকের ভিতরের আবেগের গাছটা
দিন দিন লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলছে।
কেন জানি তোমাকে এখন অনেক বেশী মনে পড়ে
তোমার সেই নিষ্পাপ সহজাত প্রতিমুর্তিটা
আমার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠে
আগের চেয়ে অনেক কঠিণ রূপে।
অনেক সময় নিজেকে সামলাতে বড় বেশী কষ্ট হয়।
সুজয়িতা সেই স্বপ্নের স্মৃতিময় দিন গুলিতে
যখন তুমি আমি একই সমান্তরাল পথে হেটেছি,
নব সুন্দর স্বপ্নের গালিচা বিচায়েছি মাতোয়ারা মনে,
বসন্তের ফুলে ফুলে সাজিয়েছি স্বপ্নের বাসর,
গ্রীষ্মের দাহ্যতার মাঝে শীতল ভালবাসায় সিক্ত হয়েছি প্রতিনিয়ত,
বর্ষায় বৃষ্টির ছন্দে খুনসুটির আলপনায় ভাসতাম,
শরতের কাশবনে শুভ্রভালবাসায় হাটতাম সীমাহীন পথ,
হেমন্তের কালকিনির দিনে স্বপ্ন দেখতাম নতুন একটা দিনের,
শীতের পৌড়তায় লুকিয়ে থাকতাম
একি জীবনের ভাজে ভাজে কত সময়।
অথচ আজ কালের অবমহিমায়
সবই যেন কল্প লোকের অজানা অধ্যায়।
জানো আমাদের অভিসারের কালের স্বাক্ষী 
সেই পুকুরঘাট, সেই কৃষ্ণচুড়ার গাছ এখনও আছে ।
কিন্তু তারা যেন আগের মতন মনহরি মনে নেই
কি যেন একটা অস্মপূর্ণতার অভাবে মলিন হয়ে আছে।
সেদিন নি:সংগতার তাড়নায় অন্ধকার পায়ে
একা একা গিয়েছিলাম সেই আদিম চেনা স্থানে।
সব কিছুর পরতে পরতে তোমার স্মৃতি খুজে পেয়েছি,
তোমাকে অনুভব করেছি সেই আগের দিনের সুজয়িতার মতোন।
এখানের বাতাসে পেলাম তোমার শরীরের সেই গন্ধ,
ধুলি কনার পরতে পরতে পেলাম তোমার সেই অস্তিত্ব 
কৃষ্ণচুড়ার ফুলে ফুলে পেলাম তোমার সেই অমলিন হাসি
নিস্তব্দতার মাঝে পেলাম তোমার সেই অভিমানি চোখের চাহনি
সব কিছুর সুকঠিন ছন্দে অনেক কাঁদলাম।
বৃষ্টি আর আমার কান্নার জল এক হয়ে মিশে গেল
তোমাদের কঠিন পৃথিবীর অনুর্বর বুকটা।
জানো সুজয়িতা কখনও ভাবিনী
জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াবো?
অথচ সেই পথটিই আজ আমার অনেক চেনা ।
সুজয়িতা যে গড়ল, যে সাঁজালো
আবার সেই যদি সব ভেংগে দেয়
তবে ক্ষতিটা কার বেশী হল বলতে পার?
যে শিল্পি তার সুনিপুন সৌখিনতায় তার সত্তাকে জাগিয়ে তুলে
সে কি শুধুই তার জন্য?
তুমি সব কিছু সাঁজিয়ে তুমিই সব কিছু ভেংগে দিলে
আমার জন্য কী রেখে গেলে?
শুধুই কী অন্ধকার প্রাপ্য ছিলাম আমি?
তুমি সব কিছু অতীতের পাতায় ইতিহাস করে দিয়ে
চলে গেলে সাঁজানো বর্তমান আর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।
আমার জন্য কি রেখে গেলে? আমি কী কী নিয়ে বাঁচবো ?
অন্ধকারে নিমজ্জিত সেই অতীতই যে 
আমার বর্তমান আর ভবিষ্যতের পথে
দাড়িয়ে আছে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে।
কারণ আমার অতীতই যে আমার বর্তমান আর ভবিষ্যত।
তুমি সুখি হও  অনেক সুখী 
প্রিয়জনের ভালবাসায় আরো সিক্ত হও।
আর আমি এগিয়ে যাই তোমার সৃষ্ট অন্ধকার পথে স্বভুমিকায়।
© স্বত্ব সংরক্ষিত

Media

আবৃত্তিকার -বদরুল আহসান খান, কবিতাঃ শেষ চিঠি
1827 বার পঠিত সর্বশেষ সম্পাদনাঃ রবিবার, 29 মার্চ 2015 13:48
হুমায়ুন আবিদ

হুমায়ুন আবিদ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন তাঁতিরসোতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস, এস, সি, পরে শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজ হতে এইচ, এস, সি, পরীক্ষায় পাশ করার পর সরকারী সাদ'ত বিশ্ববিদ্যালয়, করটিয়া হতে বি, কম, অনার্সসহ এম, কম সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে সহকারী কস্ট একাউন্ট্যান্ট পদে যোগদান করেন। ছোট বেলা থেকেই লেখার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। বর্তমানে তাঁর লেখা কয়েকটি গানসহ একুশের এলবাম 'বর্ণমালার বর্ণে আঁকা আধুনিক গানের এলবাম একটাইতো ছিল এবং কবিতা আবৃত্তির এলবাম ভাবনার কবিতাগুলি ' সিডি আকারে বের হয়েছে। এছাড়া 'কবিদের নীল পদ্ম' কাব্যে গ্রন্থে সমাজ সচেতনামূলক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

হুমায়ুন আবিদ এর সাম্প্রতিক লেখা সমূহ

এই বিভাগে অনন্যা লেখাঃ « ধরণী আজ কিছু কথা »

7 টি মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান করুন

(*) মন্তব্য প্রদান করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্য. HTML code is not allowed.