সোমবার, 28 নভেম্বর 2016 20:00

পল্লীবাসিনীর প্রেমে।

লিখেছেন 
ভোট এবং নাম্বার দিনঃ
(2 জন ভোট দিয়েছেন)
	  	♥পল্লীবাসিনীর প্রেমে।♥




ভোরের সূর্যে রংধনু সোনালী ধানে ঝিকিমিকি মুক্তা ঝরে প্রভাত পাখিদের কচি কণ্ঠে প্রভুরি গান।মহল্লার বুকে মাঠির পথ তারি পাশে সাজানো সবুজ বৃক্ষ,নৌকা চালাইয়া খালে গাহিয়াছে মাঝি গান।মনজুড়ে যায় সেই পল্লী গাঁয়ে জন্মানো মানব/মানবির সমীপে করিলে কথন।সেই গাঁয়েরি নামযে ছিল পল্লীগ্রাম।

পল্লীগ্রামের পাঠশালাতে পড়িতেন এক মায়াবিনী কন্যা,নাম যে তার পল্লবী।পল্লীবাসিনী পল্লবীর পিতা মহাজ্ঞানী পল্লীগ্রামের পাঠশালারি ছিল গুরু,যিঁনি নিত্য পাঠ দিতেন।
পল্লবী ছিলেন সত্যবাদী,লজ্জাবতী,সৎ-চরিত্রপূজারি,গুণবান ধর্মীক এক রমণী।

মায়াবিনী চেহরাও ধর্মীকতা দেখিয়া উক্ত পাঠশালায় পড়ুয়া তুরবত তার গুরুর কন্যা পল্লবীরে জানে-প্রাণে ভালবাসিয়া নিল।
ধীরেধীরে তুরবতের ভালবাসা পল্লবীর পিতামাতা অবগত হয়িল এবং নারাজি প্রকাশ করিল।এতে তুরবত তার গুরুর চোখের পিপীলিকা বনিয়া গেল।

প্রাপ্তবয়স্ক হয়িলে তুরবত পাঠগ্রহণ হইতে আপন ইচ্ছা শক্তি ফিরিয়া লইয়া নিজ পায়ে দাঁড়াইতে সফর করিলেন ভুবনের একভিন্ন প্রান্তে।সেখানে গমন করিয়াও তুরবত তার জানের মানবীকে ভুলিতে পারিল না।
সপ্তাহ পার হয়িতে নাহয়িতে একেরপর এক পত্র প্রেরণ করিতেন তুরবত তার গুরুর স্থায়ী/অস্থায়ী বাসগৃহে।
এতে ক্ষিপ্তও তিক্ত মহাজ্ঞানী গুরুও তাঁহার পরিবারবর্গ,তবুও শতবাঁধার বাঁধন ছিড়িয়া তুরবত তার মনের কথা বলিতেন।

সৃষ্টকারীর সৃষ্টি মহাজ্ঞানী গুরুজনের মানবদেহের মহা-গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হইয়া বৈদ্য-কবিরাজের উভয় চিকিৎসায় বিপদগ্রস্ত হয়িলে উন্নত চিকিৎসার জন্যি উন্নত স্বাস্থ্য-কেন্দ্রে ভর্তি হয়িলেন।
এসংবাদ কোন একদিন তুরবতের কানে পৌঁছালে তুরবত তার অস্থায়ী বাসস্থান ছাড়িয়া ছুটিয়ে গেলেন গুরুকে দেখিতে স্বাস্থ্য-কেন্দ্রের দিকে।

জলপথ-স্থলপথ আপদবিপদ সর্বপথ পাড়ি দিয়া তুরবত পৌঁছালেন গুরুর মৃত্যুপথের ধারে,সেখানে হৃদয়ভাঙ্গা জলচোখে পল্লবীও তার আপন-স্বজন সকলে উপনীত।
স্বাস্থ্য-কেন্দ্রের মহা-স্বাস্থ্যজ্ঞানী লিখিত দিলেন মহাজ্ঞানী গুরুর উভয় কিডনি নষ্ট হইয়া গেল।

কোন এক পল্লবীর স্বজন তখনি বলিলেন চাইনা মোরা পল্লবীর পিতা বাঁচুক তুরবতের অঙ্গ লইয়া,যখনি বলিতে লাগিলেন তুরবত তার একটি কিডনি দান করিয়া তার গুরুর প্রাণ বাঁচাবে।
স্বাস্থ্যজ্ঞানীর কর্ম যেহেতু রোগীরজ্ঞান ফিরানো তাই তিঁনি বলিলেন তুরবত যেই হউক আমি তার কিডনি লইয়া মহাজ্ঞানীর অঙ্গে স্থানান্তর করিয়া তুরবতের গুরুর জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করিব।

যথানিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যজ্ঞানী তুরবতকে জিঙ্গাসা করিলেন তুমি বিনিময়ে কি চাও?
জবাবে তুরবত বলিলেন:_গুরু মোরে শিখিয়ে ছিলেন ধর্মীয় জ্ঞান,শিক্ষা দিইয়া ছিল শিক্ষা-গুরুর মর্যাদা।সুতরাং চাইনা আমি মহাকিছু,আমি চাই আমারি মূল্যবান অঙ্গ দিইয়া আমারি গুরু বাঁচুক এভুবনে একটি পলক ফেলিবার জন্য,এতে আমি হব মহা ধন্য।

স্বাস্থ্যজ্ঞানী মালিকের নাম লইয়া তুরবতের দেহ হতে একটি মাত্র কিডনি কাটিয়া নিলেন।কিডনিখানা স্বাস্থ্যজ্ঞানী মহাযত্নে সংরক্ষণ করিয়া তুরবতের গুরুর অঙ্গে বসাইয়া দিলেন।
এরিফলে ধীরেধীরে পল্লবীর পিতার জ্ঞান ফিরিল এবং দুচোখ মেলিয়া দেখিলেন সুন্দর শহরও এক নয়া-দিগন্ত।মহাজ্ঞানীর স্বজন-পুত্র উভয়ের মুখে হাসি'র বন্যা যেন বহিতে লাগিল,সেক্ষণটি ছিল এক পৃথিবীর মহাপ্রাপ্তি সুখে'র ক্ষণ।

দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পার করিবার পর পল্লবীর পিতা নিজ গাঁয়েরি আপন গৃহে ফিরিলেন।
সুস্থ হইয়া কিছুদিন পর পল্লীগাঁয়ের পথ বেয়ে পল্লবীর পিতা হাটতে গেলে গাঁয়ের লোকেরা কহিলেন মহাজ্ঞানী সাহেব আপনি তুরবতের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি লইয়া এখন জীবনযাপন করিতেছেন।
একথা শুনিয়া মহাজ্ঞানীর জ্ঞানের দরজার বন্ধ তালা নাড়া দিয়া খুলিয়া ফেলিলেন।

অতঃপর পত্রের মারফতে মহাজ্ঞানী তুরবতকে তাঁহারি বাসগৃহে আমন্ত্রণ জানালেন।
তুরবত তার শিক্ষাগুরুর আমন্ত্রণ পাইয়া পল্লবীদের ঘরে গমন করিলেন।পল্লবী,পল্লবীর মা,বোন-ভাই সকলে চোখ মিটমিট করিতে লাগিল।
দানাপানি স্বল্প খাইতে দিইয়া মহাজ্ঞানী তুরবতকে কহিলেন:_ তুরবত তুমি কি পল্লবীরে পাইবার আশা বুকে বাঁধিয়া আমারে তোমারি কিডনি দিইয়া বাঁচাইয়েছ?
জবাবে তুরবত নিম্নকণ্ঠে বলিলেন:_ হে মোর মহাগুরু,আমি আপনার কন্যারে পাইবার জন্যি আপনাকে কিডনি দান করিনাই।বরং আপনি আমার শিক্ষক,আপনি আমার দুনিয়াও আখেরাতের পথ চলার প্রদীপ তাই আমি আপনাকে কিডনি দান করিয়াছি।বর্তমান সমাজে আমি আপনাকে এবং আপনার সহধর্মীনিকে এই জন্যি ভালবাসি যে,পল্লবীর মত গুণবান কন্যার পিতা-মাথা হওয়ায়।পল্লবীরে পাই বা নাপাই আপনি আমার গুরুজন,তাই আমি আপনাকে আমরণ ভালবাসিয়া যাইব।
হ্যাঁ,যদি চান পুণ্যবান পল্লবীরে আমার জীবনে দিইয়া আমার জীবনকে আরো রঙিন করিতে!!!
তাহলে আমি "না" বলিবনা।

একথা বলিবার শেষে একটা সালাম দিইয়া তুরবত পল্লবীদের গৃহ হইতে বাহির হইয়া ভিন্ন এক-অজানা মরুর পথের পথিক হয়িল।
© স্বত্ব সংরক্ষিত

220 বার পঠিত
নুরুন্নবী জামশেদ

আমি মুসলিম।মুসলিম ঘরে আমার জন্ম। নাম:-মোহাম্মদ নুরুন্নবী বিন হাছান (জামশেদ), পিতার নাম:-মোহাম্মদ হাছান আলী, মায়ের নাম:-রাশেদা খানম। জন্ম তারিখ:-০২/০৪/১৯৯২ ইং, গ্রাম:-ছনুয়া পাড়া, ডাক+ইউনিয়ন:-বদর খালী(৪৭৪২), উপজেলা:-চকরিয়া।, জেলা:-কক্সবাজার।
শিক্ষাঙ্গণ:-বদরখালী এম,এস ফাজিল (ডিগ্রী)মাদ্রাসা। মোবাইল নাম্বার:০০৯৬৮-৯৩৩২১৬১০
২০১১ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড হতে দাখিল(GPA=4.56)শেষ করি। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আলিমের টেষ্ট পরীক্ষা শেষ করি,ফাইনাল দেওয়ার পূর্বে,..
১৩/০১/২০১৩ ইং তারিখ আমি আমার জন্ম ভুমি প্রাণে দেশ,বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের উদ্দেশ্যে ওমান চলে আসি।মনের যত কথা কিছু লেখি।

1 টি মন্তব্য

  • Comment Link মোঃ নাজমুল কবির মঙ্গলবার, 29 নভেম্বর 2016 15:02 লিখেছেন মোঃ নাজমুল কবির

    সবার অনুরোধে করেছিলাম, আমাকে আর মনিকে রেখে সবাই বিদাই নিলেন, আসলে আমরা লাইক কমেন্টের পাগল

মন্তব্য প্রদান করুন

(*) মন্তব্য প্রদান করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্য. HTML code is not allowed.