শুক্রবার, 02 ডিসেম্বর 2016 16:32

মুসলিম শাসকের ভূমিকা।

লিখেছেন 
ভোট এবং নাম্বার দিনঃ
(0 জন ভোট দিয়েছেন)
	  	মুসলিম শাসকের ভূমিকা।

নদ-নদীতে তরঙ্গ জল হাসে উল্লাসে মহানন্দে ভরা তাঁর কূল,নদী'র বুকেতে মাঝি পালতোলে বেয়ে চলে তরী গরু-মহিষ পাড়িতে জল কভু নাহি হয় ভুল।কৃষক-কৃষাণি জমিতে ফলায়িত ফসল কীটপতঙ্গও করিতনা অন্যায়ভাবে ভক্ষণ,রাখাল পাল লয়ে তাঁর চলিত বাঁজায়িত বীণ।
রাজ্যের রাজা সবুজ বৃক্ষ-লতারও করিতেন অধিকার প্রতিষ্ঠিত,হৃদয়হীনরা রাজার কানুন দেখিয়া হয়িতেন ভীত।

শান্তিকামী এরাজ্যের রাজা ছিলেন "রাজা ফরহান"।ফরহান তাঁর রাজ্যের অবহেলিত প্রজাদের ন্যায্য অধীকার যথাযথ প্রদানের জন্য নিয়োজিত উজির,সেনাপতি,রাজমহলের সকল কর্মচারীও সদস্যগণকে তাগিদ দিতেন সর্বদা।রাজ্যের প্রতিটা প্রজাদের অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষাব্যবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়া এবং অভাবগ্রস্তের অভাবপূরণ করাই ছিল রাজা ফরহানের মূল লক্ষও উদ্দেশ্য।এমনকি প্রজাদের মধ্যে উপযুক্ত কোন ব্যক্তি যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় তবে তাঁর কর্মের ব্যবস্থা করতেন।
রাজ্যে বসতকারী প্রজাদের ধন-সম্পদ,জান-মাল বিনষ্টকারীর উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য বিভিন্ন স্থানে গড়িলেন বিচারালয়।বিচারালয়ের বিচারবিভাগ ছিল সম্পূর্ণ ইসলামী শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত।বাদী-বিবাদী কারো উপর অন্যায়ভাবে জুলুম করা হতনা।

একদিন রাজ্যের একগ্রাম হতে রাজা ফরহানের নিকট একখানা পত্র পৌছালো,পত্রে লিখাছিল গ্রামের বিচারালয়ের বিচারক কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে প্রায় মৃত্যুপথে।সুতরাং অত্র গ্রামে জরুরীভাবে বিচারক প্রয়োজন।
পত্রের প্রতি উত্তরে রাজা ফরহান লিখলেন,আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উক্ত গ্রামে বিচারক হিসেবে রাজা নিজেই আগমন করবেন।

ঠিক এক সপ্তাহ'র শেষের দিন প্রভাতে রাজা ফরহান আগমন করিলেন বিচারালয়ে।যথাযথ নিয়ম অনুসারে বিচারালয়ে কার্যবিধি শুরু হলে সেনাপতি দু'হাত বেঁধে অপরাধী অর্ধবয়স্ক এক ব্যক্তিকে বিবাদীর কাঠগড়ায় দাঁড় করলেন।
বিচারক নিম্নকণ্ঠে বলিলেন অপরাধীকে_ আপনি কি বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছেন?
উত্তরে অপরাধী বলিলেন, ওহে দুনিয়ার জীবনে এরাজ্যের মহারাজা! আমি বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছি।
রাজা জানতে চাইলেন কেন চুরি করিয়াছেন?
অপরাধী বলিলেন,আমার চারজন সন্তান রয়েছে মহারাজা।আমি আমার সন্তানাদিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করিবার জন্য নিজের জমিজায়গা সব বিক্রি করিয়াছি,বর্তমানে আমার সন্তানগণ মাবুদের রহমতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত।রাজা! আমার তো সম্বল নাই আপনার মহলে তথা রাজ্যের যেকোন দপ্তরে আমার কোন সন্তানকে কর্ম দিতে,কেননা দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা মুদ্রাবিহীন কর্ম দিতে চাইলোনা আমার কোন সন্তানকে।
অপরাধী আরো বলিলেন_ আমি বয়স্ক মানুষ,আমি কোন কর্ম করিতে পারিনা।আমার বড় সন্তানকে গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক পদে কর্ম দেবার জন্য ৫০০ শত দিরহাম প্রয়োজন ছিল,যা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা জুগান দিতে।তাই আমি সন্তানদের নাজানিয়ে বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছি মহারাজ।
চুরির অপরাধে আপনি আমাকে যাহা শাস্তিসরূপ প্রদান করিবেন তা আমি মানিয়া নিব।

তখন বিচারক রায় ফরমাইলেন এই যে,অপরাধী যেহেতু তার অপরাধ স্বীকার করেছেন তাই তাকে চুরির শাস্তি হাত কেটে ফেলার পরিবর্তে ৫০০ শত দিরহাম বাদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ত্রিশটি বেত্রাঘাত এবং ছয়মাসে কারাদণ্ড।
বিচারক আরো ফরমাইলেন_ অপরাধীর সন্তানকে অত্র গ্রামের পাঠশালায় শিক্ষক নিয়োগ এবং মুদ্রা দাবীকৃত কর্মকর্তাকে অপরাধীর ত্রিশটি বেত্রাঘাত থেকে বিশটি বেত্রাঘাত ভোগ করতে হবে,বাকী দশটি বেত্রাঘাত বিচারক তথা মহারাজা নিজেই ভোগ করবেন।
অতঃপর রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা যথানিয়মে রায় কার্যকর করিলেন।
রাজা নিজ পিঠে দশটি বেত্রাঘাত ভোগ করিবার পর রাজমহলে ফিরে গেলেন।

দীর্ঘ বিশবছর পর,
গোটারাজ্যের প্রতিটা পাঠশালা থেকে উত্তম পাঠদানকারী শিক্ষক হইতে একজনমাত্র সেরা শিক্ষক নির্বাচিত করলেন।
আর যিঁনি সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হইলেন তিঁনি এবং তাঁর পিতাকে রাজমহলে মহারাজা তলব করলে পিতাও পুত্র উভয়ে রাজমহলে প্রবেশ করলেন।
নির্বাচিত সেরা শিক্ষকের পিতা মহারাজাকে দেখিয়া ভীত হইলেন এবং মহারাজা তাঁহার নিজ আসন ছাড়িয়া সেরা শিক্ষকের পিতার নিকটে আসিয়া বলিলেন আমি আপনার সমীপে ক্ষমা প্রার্থী।
কেননা আমিই এই রাজ্যের মহারাজা,আমারি দায়িত্ব ছিল আপনি/আপনাদের যথাযথ খোঁজ খবর নেওয়ার।সুতরাং উভয় জাহানের মালিকের দরবারে শেষ বিচারের দিনে তাঁহারি কাছে আমাকে অপরাধী বানাবেন না,যেদিন তিঁনিই হবেন একমাত্র বিচারক।

অবশেষ, রাজমহলে উপস্থিত সকলে স্রষ্টার প্রতি প্রেমও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বুক ভাসালেন হৃদয় কাঁন্নায়।
পিতাও পুত্র রাজমহল ত্যাগ করলেন সুন্দর এক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় লয়ে।

..____________________
© স্বত্ব সংরক্ষিত

173 বার পঠিত সর্বশেষ সম্পাদনাঃ শুক্রবার, 02 ডিসেম্বর 2016 16:35
নুরুন্নবী জামশেদ

আমি মুসলিম।মুসলিম ঘরে আমার জন্ম। নাম:-মোহাম্মদ নুরুন্নবী বিন হাছান (জামশেদ), পিতার নাম:-মোহাম্মদ হাছান আলী, মায়ের নাম:-রাশেদা খানম। জন্ম তারিখ:-০২/০৪/১৯৯২ ইং, গ্রাম:-ছনুয়া পাড়া, ডাক+ইউনিয়ন:-বদর খালী(৪৭৪২), উপজেলা:-চকরিয়া।, জেলা:-কক্সবাজার।
শিক্ষাঙ্গণ:-বদরখালী এম,এস ফাজিল (ডিগ্রী)মাদ্রাসা। মোবাইল নাম্বার:০০৯৬৮-৯৩৩২১৬১০
২০১১ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড হতে দাখিল(GPA=4.56)শেষ করি। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আলিমের টেষ্ট পরীক্ষা শেষ করি,ফাইনাল দেওয়ার পূর্বে,..
১৩/০১/২০১৩ ইং তারিখ আমি আমার জন্ম ভুমি প্রাণে দেশ,বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের উদ্দেশ্যে ওমান চলে আসি।মনের যত কথা কিছু লেখি।

মন্তব্য প্রদান করুন

(*) মন্তব্য প্রদান করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্য. HTML code is not allowed.