ছোট গল্প - বাংলা সাহিত্য পরিষদ - বাংলা সাহিত্য পরিষদ http://banglasp.com Sun, 25 Feb 2018 05:36:01 +0600 Joomla! - Open Source Content Management bn-bd টিনা ও পানির ভূত http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1620-2018-01-21-16-22-06 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1620-2018-01-21-16-22-06 টিনা ও পানির ভূত তুফান মাজহার খান সেদিন টিনা তার দাদীমার কাছে একটা ভূতের গল্প শুনেছিল। ভূতটা নাকি খুব খারাপ ধরনের ছিল। যেমন তার চেহারা কদাকার ছিল ঠিক তেমনই তার কর্মকাণ্ডগুলোও ছিল খুব খারাপ। যেখানে যাকে একা পেত সেখানেই তাকে ভয় দেখানোর পায়তারা করতো। তবে কাউকে আঘাত করতো না বা মেরেও ফেলতো না। শুধু একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে ভয়ের সঞ্চার করতো ভূতটি। কখনো ভিক্ষুক সেজে, কখনো অন্ধ সেজে মানুষের সামনে আসতো। গ্রামের সকল মানুষ ভূতের যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। লোকজন দলে দলে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করছিল। সেসময়ই নাকি টিনার দাদু পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছিলেন। কিছুদিন পর গ্রামের মধ্যে এক পরামর্শ সভা ডাকা হলো। ভূত কিভাবে তাড়ানো যায় সে ব্যাপারে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হলো। একেকজন একেক পরামর্শ দিল। একজন বললো তার পরিচিত এক বৈদ্য আছে যিনি ভূত ছাড়ানোর ওস্তাদ। গ্রাম থেকে এমনভাবে ভূতকে বিতাড়িত করবে যে তার সাত পুরুষ আর এদিকে আসার নাম পর্যন্ত নেবে না। কিন্তু শর্ত হচ্ছে সে বৈদ্যকে খুশি করে দিতে হবে। অর্থাৎ সে যা চায় তাকে তাই দিতে হবে। গ্রামের মাতব্বর কেরামত আলী বললো, তুমি বৈদ্যকে খবর দাও যা লাগে আমি তাই দেব। কিন্তু এ গ্রাম জনমানবশূন্য হতে দেব না। পরদিন বৈদ্য এলো। হাতে ঝাড়ু, কাঁধে ঝোলানো থলে আর মাথায় জটলা চুল। গ্রামের সব উৎসুক মহিলা,পুরুষ, শিশু সবাই একত্রিত হলো। চোখ-মুখ ভরা কৌতুহল নিয়ে সবাই ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইলো বৈদ্যের মুখের দিকে। বৈদ্য বললো, এ বড় খাটাস প্রকৃতির ভূত। কিছুতেই কাছে আসছে না। অনেক চেষ্টার পর একটা শো.... করে আওয়াজ হলো এবং বৈদ্যের সামনে ধরানো প্রদীপটা নিভে গেল। সবাই বুঝলো যে ভূত চলে এসেছে। কিন্তু কেউ কিছু দেখতে পেল না। সবাই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। প্রথমে বৈদ্য মন্ত্রপূত পানি ছিটিয়ে ভূতকে আটকে নিল। তারপরই জোর আওয়াজে বৈদ্য বলতে লাগলো, অই বদবখত ভূত তুই গ্রামের মানুষকে ভয় দেখাস ক্যান? ভূত বললো, মাফ করো আমায়, মাফ করো আমায়। আমার ভুল হয়েছে। আমি আর কোনোদিন এমন করব না। তবু আমাকে শাস্তি দিও না। বৈদ্য বললো, না, তোকে ছাড়ব না। তোকে শিশিতে ভরে সাগরে নিক্ষেপ করব। ভূতটি এবার কেঁদেই ফেললো এবং বললো, আমি আসলে মানুষকে ভয় দেখিয়ে মজা পেতাম সেজন্য এমন করতাম। আমি কথা দিচ্ছি আমি আর কখনো এমন করব না। এখন থেকে মানুষের উপকার করব। সবাই ভূতের কান্না এবং কথা শুনতে পেল। বৈদ্য আবার বললো, ঠিক আছে যদি তাই করিস তাহলে তোকে এবারের মতো ক্ষমা করলাম। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন করলে কিন্তু আর বাঁচবি না। ভূতকে এবারের মতো ছেড়ে দেওয়া হলো। কবিরাজ গ্রামবাসীদের বললো, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। ভূত আপনাদের আর কোনো ক্ষতি করবে না। এখন থেকে ভূত আপনাদের উপকার করবে। আর যদি এর বিপরীত কিছু হয় তাহলে আমাকে খবর দেবেন আমি এসে একদম ভূতের চৌদ্দ গোষ্ঠীকে সাইজ করে দেব। বৈদ্যকে প্রচুর দক্ষিণা দিয়ে বিদায় করা হলো। এখন গ্রামবাসী একদম শঙ্কামুক্ত। বেশ ভালোই যাচ্ছিল দিনকাল। হঠাৎ একদিন প্রচুর বর্ষণ শুরু হলো। টানা তিনদিনের বৃষ্টিপাতে পুরো গ্রাম ডুবে গেল। মানুষ গাছে এবং টিনের চালে আশ্রয় নিল। মানুষ খেয়ে, না খেয়ে একেবারে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। দেখা দিয়েছিল বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। ঠিক তখনই সেই ভূত এসে বললো, আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। আপনাদেরকে এখনই বিপদমুক্ত করছি। এক ঘন্টার মধ্যে সব পানি নেমে গেল। পুরো গ্রাম আগের মতো হয়ে গেল। সবাই তখন খুশীতে আত্মহারা হয়ে গেল। এরপর থেকে গ্রামে আর কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা যায়নি। তবে টিনার দাদুরা আর গ্রামে ফিরে যায়নি। গল্পটা টিনার কাছে খুব ভালোই লেগেছিল। সে রাতে টিনা ভূতটাকে নিয়ে প্রচুর ভেবেছে। সে ভূতটা যদি এখন ঢাকা আসতো তাহলে কতোই না ভালো হতো। কারণ কদিন ধরে ঢাকাতেও একই দুর্দশায় মানুষ ভুগছে। চারিদিকে পানি আর পানি। রাস্তা-নর্দমা,অলি-গলি সব পানিতে টইটুম্বুর। টিনা কদিন ধরে স্কুলে যেতে পারছেনা। বারান্দা থেকে রাস্তায় তাকালে মনে হয় একটা নদী বয়ে গেছে বিল্ডিংগুলোর পাশ দিয়ে। তার আবার অনেকগুলো শাখা-প্রশাখাও রয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে টিনা ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে হঠাৎ দেখলো সে তার আম্মুর সাথে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছে। কিন্তু বাসার সামনে দেখলো প্রচুর পানি আর পুরো রাস্তাটাই পানিতে ভরা। তবুও তারা একটা রিকশায় উঠলো। রিকশাটার সিটটা শুধু পানির উপরে আর বাকিটা পানির নিচে। অনেক কষ্টে পা উঁচিয়ে রিকশায় বসলো তারা। রিকশাওয়ালা এক প্রকার পানিতে ডুবে ডুবেই রিকশা টানছে। হঠাৎ রিকশার একটা চাকা কোনো এক গর্তে পড়ে রিকশাটা উল্টে যায়। টিনা পানিতে ডুবে যায়। শ্বাস নিতে পারে না। কারণ টিনা সাঁতার জানে না। টিনার মা উঠে দাঁড়ায়। টিনাকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু পায় না। হঠাৎ এক দৈত্যাকৃতির মানুষ এসে সব পানি শুষে নেয়। টিনা বেরিয়ে আসে পানির ভেতর থেকে। তার শ্বাস ফিরে আসে। সে লাফিয়ে উঠে খাটের উপর। সে ভাবে, এটা স্বপ্ন ছিল? কেমন জানি দাদীমার সেই গল্পটির সাথে স্বপ্নের ভূতটার মিল রয়েছে। ইস্, যদি বাস্তবটা এমন হতো। তাহলে আর পানিতে মানুষের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। টিনা ভাবে, এটা কি শুধুই প্রকৃতির দোষ নাকি আমরাই এরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টিকারী? টিনা তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না।]]> tufankobi@gmail.com (তুফান মাজহার খান) ছোট গল্প Sun, 21 Jan 2018 22:18:15 +0600 সময়ের গল্প http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1601-2017-10-12-17-02-26 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1601-2017-10-12-17-02-26 সময়ের গল্প অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ১ মানুষ কখন মারা যাবে কেউই জানেনা | মৃত্যুর বিষয়টা অনেক রহস্যপূর্ণ | কিন্তু একজন মানুষ প্রতিদিন ভাবতো সে হয়তো আগামীকাল মারা যাবে | ফলে হালছাড়া নৌকার মাঝির মতো তার অবস্থা ছিল | অফিসের কাজগুলোও সে ঠিকভাবে করতো না | সংসারের ব্যাপারেও সে খুব উদাসীন্যে ছিলো | ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার প্রতিও তার কোন লক্ষ ছিলোনা | তার স্ত্রীর প্রতিও তার যেন কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা ছিলোনা | অনেকটা ছন্নছাড়া হয়ে চলতো সে | তার এই ধরণের আচরণের কারণে সে চাকুরী হারালো | তার স্ত্রী তাকে ত্যাগ করলো | ছেলে মেয়েরা মানুষ হলোনা | কিন্তু সে অনেকদিন বেঁচে রইলো | এখন তার বয়স আশি ছুঁই ছুঁই | এখন সে ভিক্ষে করে কোনোমতে জীবন ধারণ করে | এখন সে ভাবে যদি সে আগের জীবনটা ফিরে পেতো, তবে সে জীবনটাকে আবার নুতন করে সাজাতো | কিন্তু সময় কখনো ফিরে আসেনা | সময় বড় নির্মম | আরেকজন মানুষ ছিল সে ঠিক তার বিপরীত চিন্তা করতো | সে ভাবতো আগামীকাল আমি ঘুম থেকে আবার জেগে উঠবো আর নুতন করে শুরু করবো আরো একটি দিন | সে অফিসে খুব ভালো কাজ করছিলো | ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খবর তিনি সব সময় রাখতেন | স্বামী হিসেবে স্ত্রীর প্রতি তার যে দায়িত্ব ছিল তা সে যথাযথ পালন করতো | সে তর তর করে ভালো কাজের জন্য পদোন্নতি পেলো | অফিসের সবচেয়ে বড় পদে সে অধিষ্ঠিত হলো | ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হলো | তার স্ত্রীর কাছে সে মহানায়ক হয়ে গেলো | এখন মানুষটির অবসর জীবন তার স্ত্রী, ছেলে মেয়ে, নাতি নাতনি নিয়ে খুব আনন্দে কাটছে | এটাই জীবন | যেখানে মানুষ সময়ের সাথে চলতে পারে | আর সময়ের সাথে চলতে পারলে জীবন আরো সুন্দর ও আলোকিত হয় | ২ সবাই বলে সময় কারো জন্য বসে থাকেনা | সময় দুরন্ত জল তরঙ্গের মতো বয়ে চলে | যেমন নদী বয়ে চলে সমুদ্রের পানে | মেঘ বৃষ্টি হয়ে আকাশ থেকে ঝরে পড়ে মাটির পৃথিবীতে | তেমনি মানুষের জন্য সময় বসে থাকেনা | তবে কোনো এক অঁজপাড়া গায়ে একজন মানুষ বাস করতো | তার দর্শনটা ছিল ভিন্ন ধরণের | সে বলতো আমি সব সময় সময়ের চেয়ে আগে চলি আর সময় সব সময় আমার পিছনে থাকে | তার দর্শনের বিষয়টা এক কান থেকে আরেক কান হয়ে ঐ রাজ্যের রাজার কানে গেলো | রাজা বিষয়টা শুনে খুব কৌতুহলী হলেন | তিনি অঁজপাড়া গায়ের লোকটিকে তার সৈন্য দিয়ে ধরে আনলেন | পরের দিন রাজা রাজসভায় লোকটিকে নিয়ে আসলেন | রাজা লোকটিকে তার দর্শনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বললেন আর সাথে সাথে এইও বললেন তোমার কথা যদি মিথ্যে হয় তবে তোমার গর্দান নেবো | লোকটি বললো আমি একজন বিজ্ঞানী | আমি কয়েকটি বিজ্ঞানের সূত্র আবিষ্কার করেছি যেটির উপর পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত গবেষনার কাজ করা যাবে | যেমন ধরুন নিউটনের যে বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে তা আজও বিভিন্ন ধরণের আবিষ্কার আর গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে | আর পৃথিবী ধ্বংস হবার পূর্বদিন পর্যন্ত তা চলতে থাকবে | নিউটন মারা গেছেন কিন্তু তিনি বর্তমান সময়ের বিভিন্ন আবিষ্কারের মাধ্যমে বেঁচে আছেন | যা আজ আমরা অসম্ভব ভাবছি নিউটনের সূত্র ব্যবহার করে হাজার বছর পড়ে এমন কিছু আবিষ্কার হবে যা পৃথিবীর বর্তমান ধারণাকে পাল্টে দিবে | আমার বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো আগামীদিনের মানুষের চিন্তার খোরাক যোগাবে আর নুতন নুতন আবিষ্কার আগামী পৃথিবীকে অবাক করবে | তাহলে রাজা মশাই বলুন আমি সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছি কিনা | আমি হয়তো মারা যাবো | কিন্তু আমার অবদান আগামীদিনের আবিষ্কারগুলোর মধ্যে বেঁচে থাকবে | এখন থেকে একলক্ষ বছর পরেও মানুষকে স্বীকার করতে হবে তার আবিষ্কার আর গবেষনার মূল ভিত্তি ছিল আমার সূত্রগুলো | রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন আমি কি সময়ের আগে চলি | লোকটি বললো না | এ পৃথিবীতে কত বড় বড় রাজা মহারাজা এসেছে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইতিহাসের গর্ভে তারা হারিয়ে গেছে | মানুষ সময়কে জয় করতে পারে তার মৌলিক জ্ঞানের মাধ্যমে, কারণ মৌলিক জ্ঞান মানুষকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখে কিন্তু ক্ষমতা হারিয়ে যাই কালের গর্ভে | এটাই দর্শন | যেখানে সময় একজন মানুষকে অতিক্রম করতে পারেনা | ৩ কথায় বলে সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা | মাদার তেরেসা বলেছিলেন “গতকাল চলে গেছে, আগামীকাল এখনো আসেনি, আমরা আজকে আছি | আসুন নুতন করে শুরু করি |” আলবার্ট আইনস্টান বলেছিলেন ” সময় একধরণের বিভ্রম” | বেঞ্জামিন ফ্ল্যাঙ্কিন বলেছেন ” তুমি দেরি করতে পারো কিন্তু সময় করবেনা “| কিন্তু একজন মানুষ সময়কে কিভাবে আটকে রাখা যায় এ বিষয়ে অনেকদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন | তিনি ভাবলেন আকাশের পাখিকে যদি খাঁচায় বন্দি করা যায় তবে সময়কে কেন যাবেনা | নদী শাসন করে যদি বাঁধ দেয়া যায় তবে সময়কে কেন শাসন করা যাবেনা | মানুষের সততা ও বিবেককে যদি টাকা দিয়ে কেনা যায় তবে সময়কে কেন যাবেনা | সৌরশক্তিকে যদি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ধরে রাখা যায় তবে সময়কে কেন ধরে রাখা যাবে না | লোকটির সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত আছে | সবাই লোকটাকে বোকা ভাবতে পারে | তবে তার প্রচেষ্টা যে একদিন সফল হবেনা তা কি কেউ বলতে পারে | কারণ বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর | এখানে শিক্ষণীয় বিষয় গুলো হলো ১ | মানুষ একদিন মারা যাবে এটা যেমন সত্য, তার চেয়েও বড় সত্য হলো মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাওয়া | ২| একজন বিজ্ঞানী তার মৌলিক আবিষ্কারের মাধ্যমে সময়ের চেয়ে আগে চলতে পারে | প্রত্যেককে সৃজনশীল হতে হবে ও সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে তবে সে তার মৌলিক অবদান ও চিন্তাশক্তির মাধ্যমে সময়কে ধরে রাখতে পারবে | ৩| পৃথিবীর অনেক বিস্ময়কর আবিষ্কারের মধ্যে আগামীদিনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হতে পারে যদি কেউও সময়কে ধরে রাখতে পারে | এটা আজ হয়তো অসম্ভব বলে মনে হতে পারে কিন্তু একদিন সম্ভব হতেও পারে | কারণ পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছুই নেই |]]> asadzmn2014@yahoo.com (অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ) ছোট গল্প Thu, 12 Oct 2017 23:00:46 +0600 অন্য রকম গল্প http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1600-2017-10-12-17-00-12 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1600-2017-10-12-17-00-12 অন্য রকম গল্প অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী দুজন কবি ছিলেন | তাদের একজন গ্রামে থাকতেন আর একজন শহরে থাকতেন | গ্রামে যে কবি থাকতেন তিনি গ্রাম ছাড়া কোনোদিন বাইরের পৃথিবী দেখেননি | আর যিনি শহরে থাকতেন তিনি শহর ছাড়া আর কিছুই দেখেননি | গ্রামে যে কবি বাস করতেন তিনি গ্রামের প্রকৃতি আর মানুষের জীবনধারা নিয়ে কবিতা লিখতেন | আর যিনি শহরে থাকতেন তিনি নগর জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কবিতা লিখতেন | আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কবিতা লেখা প্রতিযোগিতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কবিদের কাছে কবিতা পাঠানোর অনুরোধ করা হলো | গ্রাম ও শহরের দুজন কবিই পুরুস্কৃত হলেন | তবে অবাক করা বিষয় হলো গ্রামে যে কবি বাস করতেন তিনি নাগরিক জীবনের বিষয় নিয়ে কবিতা লিখে পুরুস্কৃত হলেন আর শহরের কবি গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরে পুরুস্কৃত হলেন | অনেকে ভাবতে পারেন, যে মানুষ কখনো নগর দেখেনি সে পুরুস্কার পেলো নগরজীবনের কবিতা লিখে আর যে মানুষ কখনো গ্রাম দেখেনি সে পুরুস্কার পেলো গ্রামীণ জীবনের কবিতা লিখে-এটা কিভাবে সম্ভব | আসলে অসম্ভব বলে কিছু নেই | কবিরা সৃষ্টিশীল হন | তাদের কল্পনা শক্তি অদেখা ভুবনকে তাদের সামনে নিয়ে আসে | যার নাম হলো তৃতীয় নয়ন | ফলে তাদের মনের খোলা জানালা গ্রাম ছেড়ে শহরে, শহর ছেড়ে বিশ্বে আর বিশ্ব ছেড়ে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে | ২ এক ছোট শহরে দুজন বিখ্যাত মানুষ বাস করতেন | এদের একজন কবি আর একজন বিজ্ঞানী | কবি লিখলেন “আলো তোমার বেগে ছুটে চলি দিগন্ত ছেড়ে দিগন্তে যে কোন স্বপ্নরাঙা মুহূর্তে” | বিজ্ঞানী কবিতাটি পড়ে একটা দারুণ আইডিয়া পেলো | তিনি আলোর গতিকে ব্যবহার করে কিভাবে মুহূর্তেই একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যায় তা নিয়ে গবেষণা করা শুরু করলেন | হয়তো তা একদিন বাস্তবতায় রূপ নেবে | কবি তার আরেক কবিতায় লিখলেন “আমি সমুদ্রের গভীরে বানাতে চাই আমার বসতবাড়ি যেথায় নীল জলতরঙ্গে ভিজবে জীবন গাড়ি”| বিজ্ঞানী কবিতাটি পড়ে আর্কিমিডিসের মতো বলে উঠলেন “ইউরেকা ইউরেকা পেয়েছি পেয়েছি”| তিনি সমুদ্রের পানির গভীরে কিভাবে মানুষে বাসস্থান, শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন | হয়তো এটাই আজ ও আগামীর বাস্তবতা | মাটির পৃথিবীর নিচে মানুষের বসবাসের জন্য আরেক পৃথিবী তৈরী হবে | একদিন কবি লিখলেন আমি যৌবন ফিরে পেতে চাই আত্মার নির্ভরতায়”| বিজ্ঞানী পেলেন আরেকটি আইডিয়া | তিনি আত্মার গবেষণার মাধ্যমে চির যৌবন ধরে রাখার আবিষ্কারে মন দিলেন | কবির কল্পনা অনেকে ভাবতে পারে অবাস্তব | তবে কবিরাই আসল বিজ্ঞানী, যারা কল্পনা দিয়ে নুতন ধারণা তৈরী করেন আর বিজ্ঞানীরা তা বাস্তবে রূপ দেন | তাই একদিন বিজ্ঞানী বিনয়ী হয়ে বললেন “কবিতা একটি বিজ্ঞান আর কবিরা হলেন বিজ্ঞানীদের শিক্ষক” | কবি সম্মানিত হলেন | তিনিও বিনীতভাবে বললেন “বিজ্ঞানীরা হলেন কবি যারা কবিতাকে বাস্তব করে তুলেন | তারা কবিদের স্বপ্নস্রষ্টা | বিজ্ঞানী মোহিত হলেন |দুজন দুজনকে আবেগে জড়িয়ে ধরলেন | সৃষ্টি হলো নুতন ইতিহাস, নুতন ধারণা | ৩ একদিন এক ফরাসি দার্শনিকের সাথে একজন স্বৈরাচারী শাসকের দেখা হলো | স্বৈরাচারী শাসক দার্শনিককে জিজ্ঞাসা করলো “বলুনতো ক্ষমতার হাত কত বড়” | দার্শনিক বললো “ক্ষমতার হাত আগুনের মতো |” স্বৈরাচারী শাসক অত্যন্ত কৌতুহল নিয়ে বললো “বুঝতে পারলাম না |” উত্তরে দার্শনিক বললেন “যখন আগুনের উত্তাপ থাকে তখন আগুনে সবকিছু পুড়তে থাকে | কেউ বাঁচতে পারেনা | কিন্তু আগুন যখন থেমে যায় তখন সবকিছু ছাই হয়ে যাই | আর দমকা বাতাসে তা উড়ে চলে যায় | তখন আগুনের কোনো অস্তিত্ব থাকেনা | ক্ষমতার হাত ততটুকু যতক্ষণ আগুন জ্বলতে থাকে আর আগুনের উত্তাপ থাকে | তারপর ঐ হাতের কোনো অস্তিত্ব থাকেনা |” স্বৈরাচারী শাসক দার্শনিক বললো “আমাকে সবাই সুশাসক না বলে স্বৈরাচারী বলে কেন?” দার্শনিক বললেন “এটা ব্যক্তির উপর নির্ভর করে | যারা আপনার দ্বারা উপকৃত হয় তারা আপনাকে স্বৈরাচারী বলে কারণ তারা আরো বেশি পেতে চায় | তাদের চাহিদার কোনো শেষ থাকেনা | আর যারা আপনার দ্বারা শোষিত হয় তারাতো আপনাকে স্বৈরাচারী বলবেই | তবে এর সঠিক উত্তর দিতে পারে আপনার বিবেক | মনের আয়নার সামনে দাঁড়ান আর বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন আপনি কে? উত্তরটা পেয়ে যাবেন |” যখন স্বৈরাচারী শাসক দার্শনিকের সাথে কথা বলছিলেন তখন তার স্ত্রী এতে বিরক্তি প্রকাশ করতে লাগলেন আর চোখ রাঙিয়ে রাগতস্বরে বললেন “তোমার রাতে আজ খবর আছে |” দার্শনিক কানে কানে স্বৈরাচারী শাসককে বললেন “আপনার থেকে আপনার স্ত্রী বেশি স্বৈরাচারী বলে মনে হচ্ছে | স্বৈরাচারী বিষয়টা আবার কমবেশি হতে পারে | যাক বিচারের ভার আপনার উপর |” স্বৈরাচারী শাসক দার্শনিককে বললেন “আমার ও আমার স্ত্রীর থেকে আপনি বেশি স্বৈরাচারী |” দার্শনিক জিজ্ঞেস করলো কেন | স্বৈরাচারী শাসক বললেন “আমার কানের কাছে চুপিসারে কথা বলে আমার স্ত্রীর মধ্যে যে সন্দেহ তৈরী করলেন তা আমাকে সারাজীবন ভুগাবে |” আসলে কে স্বৈরাচারী তা বলা খুব কঠিন | পৃথিবীটা বুঝি এমনই একটা অদ্ভুত জায়গা | এখানে শিক্ষণীয় বিষয় গুলো হলো ১ | মানুষ যদি সৃজনশীল হয় তবে তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক প্রসারিত হতে পারে | তার ভিতরের সৃষ্টিশীলতা তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় | অনেক অদেখা ভুবন তার কল্পনা শক্তি দিয়ে সে দেখতে পায় | ২| কবিরা বিজ্ঞানীদের শিক্ষক হতে পারে আর বিজ্ঞানীরা কবিতাকে বাস্তবতায় রূপ দেয় | দুজনেই একে অন্যের পরিপূরক |আর বিনয় কেবলমাত্র প্রকৃত যোগ্য মানুষেরাই দেখতে পারে | ৩| পৃথিবীতে কে স্বৈরাচারী তা বলা খুব কঠিন | এটা ব্যক্তির বিবেচনা ও বিবেকের উপর নির্ভর করে।]]> asadzmn2014@yahoo.com (অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ) ছোট গল্প Thu, 12 Oct 2017 22:58:45 +0600 জীবন ও বাস্তবতার গল্প http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1599-2017-10-12-16-57-59 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1599-2017-10-12-16-57-59 জীবন ও বাস্তবতার গল্প ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর গল্প একদেশে এক রাজা ছিল। রাজার খুব শখ হল সে কবিতা লিখবে। রাজা শুধু ভাবে আর ভাবে কিন্তু কবিতা কি নিয়ে লিখবে ভেবেপায়না। অবশেষে রাজা রানীর কাছে গেলো। রানীর কাছে গিয়ে বললো আমি কিনিয়ে কবিতা লিখতে পারি। রানী বললো আমাকে নিয়ে কবিতা লিখো। রাজা রানীর কোন বিষয় নিয়ে কবিতা লিখবে তা ভেবে কুল কিনারা পেলোনা। রাজা ভাবছে আর ভাবছে। কিন্তু কোনো শব্দই লিখতে পারছেনা। রাজা আবার রানীকে গিয়ে বললো আমি তোমার কোন বিষয় নিয়ে লিখবো। রানী বললো, আমার রূপের বর্ণনা নিয়ে লিখো। রাজা আবার ভাবতে শুরু করলো রানীর রূপের কোন বিষয় নিয়ে লিখবে। রাজা ভেবে ভেবে আর কোনো উত্তর খুঁজে পায়না। রাজা আবার রানীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো তোমার রূপের কোন বিষয় নিয়ে আমি লিখতে পারি? রানী বললো আমার চেহারের বর্ণনা দিয়ে কবিতা লিখতে পারো। রাজা আবার চিন্তায় পড়ে গেলো রানীর ভিতরের চেহারা নিয়ে লিখবে নাকি বাইরের চেহারা নিয়ে লিখবে। কারণ রাজা জানতো রানী তার অপরূপ সৌন্দর্যের জন্য ভিতরে ভিতরে অহংকারী হয়ে উঠেছিল। আবার বাইরের চেহারার কোন বিষয় নিয়ে লিখবে তা ভেবে ভেবে রাতদিন কেটে গেলো। মাস শেষে বছর গেলো। বছর শেষে যুগ গেলো। এরপর দুই যুগ কেটে গেলো কিন্তু রাজা একটা শব্দও লিখতে পারলো না। রানী ইতিমধ্যে বুড়িয়ে গেলো। রূপ লাবণ্য হারালো। একদিন হঠাৎ করে সে রাজাকে জিজ্ঞাসা করলো আমাকে নিয়ে কবিতাটা কি লিখেছো? রাজা বললেন, না। রানী বললেন, তবে আর লেখার দরকার নেই। কারণ রানী জানে এখন সে বয়সের কারণে রূপ লাবণ্য হারিয়েছে। কাজেই এখন রাজা তাকে নিয়ে যদি কোনো কবিতা লিখে সেটা ভালো হবে না। রাজা খুশি হলো এই ভেবে যে বয়সের কারণে রানীর বাইরের সৌন্দর্য কমে গেলেও তার ভিতরের চেহারায় যে অহংকার ছিল তা আর নেই। রাজা ভাবলো কবিতা লিখতে চাইলেও লিখা যায় না। রাজা হওয়া সহজ কিন্তু কবি হওয়া কঠিন। অবশেষে রাজা কবিতা লিখার চিন্তা বাদ দিয়ে রাজ্য শাসনে মন দিলেন। ২ ঘটনাটা সত্য হতে পারে আবার কাল্পনিকও হতে পারে। তবে অবাস্তব কিছু নয়। খুব ঢাকঢোল পিটিয়ে বিদেশী একটি রিসার্চ গ্রুপ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় আয়োজন করলো। তারা বিজয়ী দলের জন্য পাঁচলক্ষ টাকা অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করলো। বিদেশী রিসার্চ গ্রুপটি জানতো এদেশের তরুণদের মেধা ও আইডিয়া এবং তার প্রয়োগ বিশ্বের যে কোনো তরুণদের চেয়ে অনেক বেশি। তারা তাই সুকৌশলে বড় অংকের অর্থের পুরস্কার ঘোষণা করে তরুণদের প্রলুদ্ধ করতে চাইলো। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইডিয়া ও প্রযুক্তি চুরি করে তাদের দেশে এটা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা আর আবিষ্কারের কৃতিত্ব টাকে নেওয়া। তরুণরা তাদের ভিতরের বিষয়টি বুঝতে না পেরে তাদের অনেক নুতন ও যুগান্তকারী আইডিয়া ও সৃষ্টি প্রতিযোগিতায় নিয়ে আসলো। বিদেশী রিসার্চ গ্রুপটি আইডিয়া ও সৃষ্টিগুলো পেয়ে গেলো। অন্য কথায় চুরি করল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী একটি গ্রুপকে পাঁচলক্ষ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হলো। এরপর ঐ বিদেশী রিসার্চ গ্রুপটি বাংলাদেশের তরুণদের আইডিয়া ও সৃষ্টিগুলো তাদের দেশে নিজেদের বলে প্রকাশ করল। এগুলোর পেটেণ্ট বা মালিকানাসত্ব তারা নিজেদের নামে করে নিলো। এখন তাদের চুরি করা ভালোভালো আবিষ্কার ও আইডিয়াগুলো আইনগতভাবে তাদের হয়ে গেলো। তারা বাণিজ্যিকভাবে এগুলো উৎপাদন করা শুরু করল আর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মালিক বনে গেলো। মাত্র পাঁচলক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে তারা বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসা প্রসারিত করল। বাংলাদেশের সম্ভবনাময় তরুণরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের আগামীর সম্ভবনা নষ্ট করল। ৩. এক নিভৃত শহরে তিনজন লোক বাস করতো। লোকগুলোর কথাবার্তা ছিল অন্যদের থেকে খানিকটা ভিন্ন ধরণের। একজন লোক বলতো আমি চাঁদে যাবো। আরেকজন বলতো আমি চাঁদকে আমার হাতের মুঠোয় নিবো। অন্য একজন বলতো মানুষের রূপান্তর ঘটে। গ্রামের মানুষেরা তাদের নিয়ে খুব হাসাহাসি ও অবিশ্বাস করতো। একদিন গ্রামের মানুষের একত্রিত হয়ে তাদের জেরা করা শুরু করল। প্রথমে তারা চাঁদে যে যেতে চায় তাকে জিজ্ঞাসা করল “তুমি যে চাঁদে যাবে তোমার রকেট কই?” সবাই একথাটা বলার পর তাকে ব্যাঙ্গ করা শুরু করল। তবে লোকটি উত্তর দিলো আমার রকেট নেই তবে টিকেট আছে। আমি আগামী মাসে চাঁদ প্রজাতন্ত্রে বেড়াতে যাবো আর এটা মধ্য আফ্রিকার একটি দেশ। সবাই কথাটা শুনে বোকা বনে গেলো । যে লোকটা চাঁদকে হাতের মুঠোয় নিবে বলেছিলো তাকে বললো ” দেখি তুমি আকাশের চাঁদকে কিভাবে হাতের মুঠোয় নিতে পারো?” সবাই হাসিতে গড়াগড়ি খেলো। লোকটি তখন ছোট একটা বৃত্তাকার কাচের আয়না তার হাতে রেখে আকাশের চাঁদকে আয়নার ভিতরে আনল। সবাই লোকটির বুদ্ধিতে হতবাক হলো। এরপর তারা আরেক জনকে বললো “বলত কিভাবে মানুষে রূপান্তর ঘটে ? মানুষ কি বানর হয় নাকি বনমানুষ ?” উত্তরে সে বললো আমি যদি একজন নারীর কথা বলি “প্রথমে সে কন্যা হয়, এরপর সে কারো ঘরের বৌ হয়, তারপর মমতাময়ী মা হয়, শেষে নানী বা দাদী হয় “। আর এভাবে মানুষের রূপান্তর ঘটে। শহরের লোকেরা নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। তারা নিজেদের বোকামিতে লজ্জিত হলো। এখানে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো- ১. সবাই কবি হতে চাইলেও কবি হতে পারেনা। এর জন্য একটা সৃষ্টিশীল মন থাকতে হয়। সময়ের সাথে মানুষের ভিতরের উপলব্ধির পরিবর্তন ঘটে। ২. কখনো কোনো সৃষ্টিশীল আইডিয়া কারো কাছে শেয়ার করতে নেই। একজনের অবদান অন্যজন কৌশলে কেড়ে নিতে পারে। ৩. মানুষকে কখনো ভালোভাবে না জেনে অবিশ্বাস করতে নেই । কেননা বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।]]> asadzmn2014@yahoo.com (অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ) ছোট গল্প Thu, 12 Oct 2017 22:57:03 +0600 ভাবনার গল্প http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1598-2017-10-12-16-55-57 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1598-2017-10-12-16-55-57 ভাবনার গল্প অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ১ অনেকদিন আগের কথা। কয়েকজন মানুষ আদালত পাড়ার সামনে টাইপ রাইটার নিয়ে বসতো। প্রচুর কাজ তারা সারাদিন ধরে করতো। আয় উপার্জনও বেশ ভালো ছিল। সুখেই তাদের সংসার চলছিল। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তো থেমে থাকেনা। এটা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনের ধারায় এলো কম্পিউটার। লোকজন কম্পিউটারের প্রতি ঝুকে পড়লো। যারা টাইপ রাইটার নিয়ে বসেছিল, তাদের কাছে আর কেউ যেতোনা | তাদের দুর্দিন দেখা দিলো | এদের মধ্যে কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিলো তারা নিজেদের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে অভ্যস্ত করে নিবে | তারা পরিবর্তনটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলো | এরপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কম্পিউটার শিখার উদ্যোগ গ্রহণ করলো | তারা খুব দ্রুত তাদের নিজেদের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিলো এবং তাদের আয় উপার্জন আগের থেকে অনেক বেড়ে গেলো | তারা নিজেরা সমৃদ্ধ হলো আর সংসারে আগের চেয়ে সমৃদ্ধি নিয়ে এলো | কিন্তু তাদের মধ্যে বাকি যারা ছিল তারা পরিবর্তনকে বোঝা হিসেবে মনে করলো | তারা নিজেদেরকে পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে ভয় ও অনাগ্রহ প্রকাশ করলো | তারা দিন মজুর হিসেবে কাজ করা শুরু করলো | কোনোদিন কাজ পেতো আর কোনোদিন পেতোনা | তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়লো আর সংসারে অশান্তি নেমে এলো | সময় বদলায়, তার সাথে আসে প্রযুক্তির পরিবর্তন | যারা সেই পরিবর্তনের সাথে চলতে পারেনা তারা থেমে যায় আর যারা চলতে পারে তারা এগিয়ে যায় | আর এটাই বাস্তবতা | ২ কবি বলেছিলেন “কত রূপ স্নেহ করি দেশীয় কুকুর ধরি বিদেশি ঠাকুর ফেলিয়া ” আর জীবনানন্দ বলেছিলেন “আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়. হয়তো বা মানুষ নয়-হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে,. হয়তো বা ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুক ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়।” এরকম একটি গল্পের কথা বলছি | ফরহাদ ও মাজহার দুজনেই একইসঙ্গে দেশের একটি নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলো | দুজনেই তাদের শিক্ষা, গবেষণা ও ছাত্রদের প্রতি অবদানের মাধ্যমে খুব দ্রুত সবার কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেলো | সবাই তাদের অর্জনে খুশি হলো | তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকায় গমন করলো | সেখান থেকে দুজনেই পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করলো | এদের মধ্যে ফরহাদ দেশের টানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিলো | তার মধ্যে আরেকটি বিষয় কাজ করছিলো তা হলো যে দেশ তাকে একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে তার প্রতি তার একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে | সে তার বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়ে বিষয়টি অনুভব করলো | দেশ ও দেশের মানুষকে সেবার মহান ব্রত নিয়ে সে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলো | একদিন সে কালক্রমে অধ্যাপক হলো | দেশ তার দ্বারা উপকৃত হলো, দেশের গন্ডি পেরিয়ে তার সুখ্যাতি বিদেশেও ছড়িয়ে পড়লো | তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সে একদিন জাতীয় অধ্যাপকের সম্মানে ভূষিত হলো | মাজহারের মনোভাব ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত | সে দেশের চেয়ে বিদেশকে বেশি প্রাধান্য দিলো | সে বলে বেড়াতে লাগলো “দেশ আমাকে কি দিলো সেটি বড় কথা নয়, আমি দেশকে কি দিলাম সেটি বড়কথা” এটা সে বিশ্বাস করেনা | সে আরো বলতে লাগলো “দেশের কোনো ভবিষৎ নেই | ওখানে গিয়ে কি হবে আমার নিজের স্বার্থটা আগে দেখতে হবে, দেশের আবার স্বার্থ কি |” সে তার মাতৃভূমিকে অবজ্ঞা করলো | কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন আর কঠিন | আমেরিকায় প্রথমে সে যার তত্বাবধানে পিএইচডি করেছিল তার একটি দুই বছরের প্রজেক্টে চাকুরী নিলো | প্রজেক্ট শেষ হলে তাকে বলা হলো আজ থেকে তোমার চাকুরী নেই | এরপর মহা বিপদ তার জীবনে নেমে আসলো | সে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো চাকুরী পেলোনা | তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে সে কোনোমতে একটা ট্যাক্সি চালানোর চাকুরী পেলো | সবসময় মার্কিন সরকারের নজরদারির মধ্যে তাকে থাকতে হলো | এতো বড় ডিগ্রী পেয়ে সে মার্কিন সরকারের সন্দেহের মধ্যে পরে গেলো আর সে এখন একজন গাড়ির ড্রাইভার | সে হতাশাগ্রস্ত হলো | সে যে নিজের দেশে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল সেখানে আবার যোগদান করার আকুতি জানালো | কিন্তু সময় খুব নির্মম যেমন সে একসময় নির্মম ছিল তার দেশের প্রতি আনুগত্যে | একদিন হতাশায় ভূগতে ভূগতে ব্রেন স্ট্রোক করে সে কম বয়সে মারা গেলো | হয়তো এটাই ছিল প্রকৃতির বিচার | তবে এর ভিন্নতাও ঘটতে পারে তবে সেটা হাতেগোনা | এ. পি. জে. আবদুল কালাম আজাদ এমন একজন প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন তাকে কিন্তু আমেরিকার মতো দেশ কিনতে পারেনি | এর কারণ ছিল তার দেশপ্রেম | ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয় | তিনি ভারতের সফল রাষ্ট্রপতি ছিলেন | এ. পি. জে. আবদুল কালাম আজাদ বলেছিলেন “তিনজনই পারেন একটি দেশ বা জাতিকে বদলাতে। তাঁরা হলেন, বাবা, মা ও শিক্ষক।” আমরা শিক্ষকরা কি তা পারছি নাকি দেশের স্বার্থের চেয়ে আমরা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিদেশ বিভুয়ে পরদেশী পরজীবী হয়ে দিন যাপন করছি | কেননা তিনি বলেছিলেন “যদি সূর্য হতে চাও তবে সূর্যের মতো নিজেকে পোড়াও।” আমরা দেশে থেকে নিজেকে পোড়াতে পোড়াতে একদিন সোনা হতে চাই | ৩ দুজন মানুষ ছিলেন | তারা দুজনেই বাংলাদেশে বাস করতেন | এদের একজন দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করতো আর একজন এগুলো অবজ্ঞা করতো | একদিন সকাল বেলা দুজন দুজনের সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছে | সন্তানরা তাদের বাবাদের জিজ্ঞাসা করলো “কেন আজ সবাই বাসন্তী রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তুলেছে ।” যে বাবা দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করতো সে তার সন্তানকে বললো “আজ বসন্ত উৎসব, বসন্তের প্রথম দিন | তাই মনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে সবাই নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে | তিনি গুন্ গুন্ করে গাইলেন রবীন্দ্রনাথের সেই পরিচিত গান ‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়….।’ তিনি উচ্চারণ করলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অমীয় বাণীটি ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’ | ছেলেটি তার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়ে গর্ববোধ করলো | তার নিজের ঐতিহ্যে সে আনন্দিত হয়ে উঠলো | আর যে বাবাটি দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করতোনা সে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারলোনা | সে বললো মনে হয় এরা সবাই নৃত্য শিল্পী কোনো অনুষ্ঠানে যাচ্ছে অথবা এরা বিয়ের অনুষ্ঠানে গমন করছে | তার ছেলেটি সংকীর্ন ও ভুল একটা জিনিস সারাজীবন নিজের মধ্যে ধারণ করে নিলো | এখানে শিক্ষণীয় বিষয় গুলো হলো ১ | প্রযুক্তির সাথে যারা চলতে পারে তারাই টিকে থাকে আর যারা চলতে পারেনা তারা থেমে যায়| ২| দেশকে ভালোবাসুন আর দেশপ্রেমিক হতে শিখুন | স্বার্থপরতা ত্যাগ করে দেশের স্বার্থে কাজ করুন | ৩| নিজের সংস্কৃতিকে চিনুন ও মনের উদারতা তৈরী করুন |]]> asadzmn2014@yahoo.com (অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ) ছোট গল্প Thu, 12 Oct 2017 22:54:37 +0600 গল্প নাকি বাস্তবতা http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1597-2017-10-12-16-45-46 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1597-2017-10-12-16-45-46 গল্প নাকি বাস্তবতা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ১ সখিনার প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল একই গ্রামের রুবেল মিয়ার সাথে | রুবেল মিয়া বাউন্ডুলে ধরণের একজন মানুষ | অন্তঃসত্বা সখিনাকে ছেড়ে সে একদিন পালিয়ে গেলো | অসহায় সখিনার জীর্ণ ঘরে এলো রাজকন্যার মতো ফুটফুটে একটি মেয়ে | গ্রাম ছেড়ে সন্তানকে কোলে নিয়ে ভাগ্যের অন্বেষণে সখিনা ছুটলো রাজধানী শহর ঢাকায় | একটা বস্তিতে আশ্রয় নিলো সে | কাজ খুঁজতে গিয়ে খারাপ প্রস্তাব এলো তার কাছে | ছেঁড়া আঁচলে সে নরপশুদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে লাগলো | আর বেঁচে থাকার জন্য ক্ষুধার যন্ত্রনা তাকে তাড়িত করছিলো | তার উপর তার সন্তানের আর্তনাদ | একদিন সে বিবেক শুন্য হয়ে তার সন্তান কে বিক্রি করে দিলো | কোনো ব্যথা অনুভব করলোনা সে | নুতন করে ভাগ্য গড়ার নেশায় সে বিয়ে করলো বস্তির করিম মাতব্বরকে | একদিন সেও সখিনাকে অন্তঃসত্বা রেখে বস্তির আরেক মেয়েকে নিয়ে নিরুদ্দেশ হলো | সখিনার ঘরে আরেক মেয়ে জন্ম নিলো | একদিন সে তাকে বিক্রি করে দিলো | কিন্তু কোনো ধরনের অনুভূতি তার মধ্যে কাজ করল না | আবার ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সে বিয়ে করলো বস্তির রজব বেপারীকে | খুব চতুর ছিল রজব বেপারী | সে কক্সবাজারে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে এবার সখিনাকে বিক্রি করে দিলো নর পশুদের হাতে | তারপর শুধু অন্ধকারের গল্প | আর তার মেয়ে দুটি এরাও কি অন্ধকার জগতে হারিয়ে যাবে | বিবেককে প্রশ্ন করুন | উত্তরটা খুব কঠিন | এখানে দোষীদের ভিড়ে খুঁজে পাওয়া কঠিন কে আসল অপরাধী | ২ খুব রক্ষণশীল ঘরের মেয়ে ছিল রহিমা | সব কিছুতেই ছিল বিধি নিষেদ | মা বাবা বন্ধু না হয়ে কসাইয়ের মতো আচরণ করতো | বদ্ধ ঘরের মধ্যে পৃথিবীর আলো বাতাস না দেখেই বড় হয়ে উঠলো রহিমা | তার বাবা একদিন বাড়িতে এসে জানালেন তিনি মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছেন | রহিমার তখন পনের বছর বয়স | কিছুই বুঝত না সে | কারণ তার নিজের ভিতর যে সৃষ্টিশীলতা ছিল তা বিধি নিষেদের বেড়া জালে তার নিজেস্ব চিন্তা করার জগৎটার মৃত্যু ঘটেছিলো | পনের বছরের কচি একটি মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়া হলো খুব রক্ষণশীল কাদের আলীর | পঞ্চাশ বছর বয়স ছিল তার | এর আগে তার পাঁচ বার বিয়ে হয়েছিল | বিয়ের পর নারী হিসেবে যে মর্যাদা পাবার কথা ছিল তা হারালো রহিমা | তার নিজেস্ব চিন্তার জগতের কোনো অস্তিত্ব ছিলোনা | এবার কাদের আলী কাদা মাটির মতো নরম মাথায় জঙ্গিবাদের বীজ ঢুকিয়ে দিলো | রহিমার সন্তান হলো | কিন্তু মা হবার আনন্দ তার মধ্যে ছিলোনা | একদিন সে পুরোপুরি জঙ্গি হয়ে গেলো | কাদের আলী ও তার অপর জঙ্গি সঙ্গীরা রহিমা ও তার সন্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতা করার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা বেছে নিলো | রহিমা তাদের কুমন্ত্রণায় তার সন্তানকে মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে নাশকতার অংশ হলো | গোয়েন্দারা গোপন সূত্ৰে খবর পেয়ে জঙ্গিদের আস্তানায় হামলা চালালো | রহিমা তার সন্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে গোলাগুলিতে তার সন্তানটির মৃত্যু হলো | রহিমা সামান্য আহত হলো | তার মনে কোনো ধরণের অনুসূচনা বা কষ্ট কাজ করলনা | এখানে কে প্রকৃত অপরাধী তা কে কেউ কখনো খুঁজবে নাকি বরফে ঢাকা পড়বেপ্রকৃত কারণ | ৩ দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে রাতুল রুবিনার সংসার খুব সুখেই কাটছিলো | রাতুল তার কাজকর্ম নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লো | রাতে এসে সে সন্তাদের আদর করে কোলে নিতো আর তার বউয়ের অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করতো | একদিন রাতুলের সাথে তার এক পুরোনো বন্ধুর দেখা হলো | খুব জমকালো একটা আড্ডা দেয়ার পর সে তার বন্ধুকে নিয়ে রাতে তার বাড়িতে এলো | রুবিনা খুব যত্ন সহকারে রান্না করেছিল | রাতুলের বন্ধু রুবিনার খুব প্রশংসা করলো | রাতুল তার বন্ধুকে কথা প্রসঙ্গে বললো সে কাজের ব্যস্ততার জন্য রুবিনা ও ছেলে মেয়েদের সময় দিতে পারতোনা | বন্ধুটি লম্পট প্রকৃতির ছিল | সে কথাটি শুনেই বললো ভাবি আর বাচ্চাদের আমি সময় দিবো তুই কাজে মন দে | রুবেলের বন্ধু রুবিনার মন জয় করার চেষ্টা করতে লাগলো | রুবেলের নামেও অনেক মিথ্যে কথা বললো | একসময় রুবিনা ও রুবেলের বন্ধু একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হলো | ছোট ছোট ছেলে মেয়ে দুটি বিষয়টা ভালোভাবে নিতে পারলোনা | একদিন তারা খারাপ ধরণের একটি ঘটনায় খুব কষ্ট পেলো | তারা তার মাকে বললো আজ বাবা আসলে সব বলে দিবো | রুবিনা চিন্তায় পড়লো | সে বিষয়টা রাতুলের বন্ধুকে জানালো | পরকীয়ার বলী হলো নিষ্পাপ দুটি সন্তান | রুবিনার মনে কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলোনা | বিষয়টা শুধু রুবিনার ক্ষেত্রে ভাবা উচিত নয় এটা রাতুলের ক্ষেত্রেও হতে পারে | এখানে কে প্রকৃত অপরাধী এটা বোঝা খুব জটিল | সমীকরণটাও মেলানো খুব কঠিন | এখানে শিক্ষণীয় বিষয় গুলো হলো ১ | নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ জীবনের ব্যবস্থা করতে হবে | এ বিষয়ে সমাজ, গবেষক, সরকার, সচেতন নাগরিক ও মনস্তত্ববিদদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে | ২| নারীদের ঘরে বন্দি না করে পৃথিবীর আলোকিত ভুবনকে চেনাতে হবে | নারী ও পুরুষের ব্যবধান তৈরী করা উচিত নয় | অতি রক্ষনশীলতা মানুষকে জঙ্গি ও নির্মম বানায় | ৩| আপনজনের শিকার যেন আপনজন না হয় | সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে |]]> asadzmn2014@yahoo.com (অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ) ছোট গল্প Thu, 12 Oct 2017 22:43:57 +0600 মুসলিম শাসকের ভূমিকা। http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1455-2016-12-02-10-35-05 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1455-2016-12-02-10-35-05 মুসলিম শাসকের ভূমিকা। নদ-নদীতে তরঙ্গ জল হাসে উল্লাসে মহানন্দে ভরা তাঁর কূল,নদী'র বুকেতে মাঝি পালতোলে বেয়ে চলে তরী গরু-মহিষ পাড়িতে জল কভু নাহি হয় ভুল।কৃষক-কৃষাণি জমিতে ফলায়িত ফসল কীটপতঙ্গও করিতনা অন্যায়ভাবে ভক্ষণ,রাখাল পাল লয়ে তাঁর চলিত বাঁজায়িত বীণ। রাজ্যের রাজা সবুজ বৃক্ষ-লতারও করিতেন অধিকার প্রতিষ্ঠিত,হৃদয়হীনরা রাজার কানুন দেখিয়া হয়িতেন ভীত। শান্তিকামী এরাজ্যের রাজা ছিলেন "রাজা ফরহান"।ফরহান তাঁর রাজ্যের অবহেলিত প্রজাদের ন্যায্য অধীকার যথাযথ প্রদানের জন্য নিয়োজিত উজির,সেনাপতি,রাজমহলের সকল কর্মচারীও সদস্যগণকে তাগিদ দিতেন সর্বদা।রাজ্যের প্রতিটা প্রজাদের অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষাব্যবস্থার খোঁজ-খবর নেওয়া এবং অভাবগ্রস্তের অভাবপূরণ করাই ছিল রাজা ফরহানের মূল লক্ষও উদ্দেশ্য।এমনকি প্রজাদের মধ্যে উপযুক্ত কোন ব্যক্তি যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয় তবে তাঁর কর্মের ব্যবস্থা করতেন। রাজ্যে বসতকারী প্রজাদের ধন-সম্পদ,জান-মাল বিনষ্টকারীর উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের জন্য বিভিন্ন স্থানে গড়িলেন বিচারালয়।বিচারালয়ের বিচারবিভাগ ছিল সম্পূর্ণ ইসলামী শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত।বাদী-বিবাদী কারো উপর অন্যায়ভাবে জুলুম করা হতনা। একদিন রাজ্যের একগ্রাম হতে রাজা ফরহানের নিকট একখানা পত্র পৌছালো,পত্রে লিখাছিল গ্রামের বিচারালয়ের বিচারক কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে প্রায় মৃত্যুপথে।সুতরাং অত্র গ্রামে জরুরীভাবে বিচারক প্রয়োজন। পত্রের প্রতি উত্তরে রাজা ফরহান লিখলেন,আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উক্ত গ্রামে বিচারক হিসেবে রাজা নিজেই আগমন করবেন। ঠিক এক সপ্তাহ'র শেষের দিন প্রভাতে রাজা ফরহান আগমন করিলেন বিচারালয়ে।যথাযথ নিয়ম অনুসারে বিচারালয়ে কার্যবিধি শুরু হলে সেনাপতি দু'হাত বেঁধে অপরাধী অর্ধবয়স্ক এক ব্যক্তিকে বিবাদীর কাঠগড়ায় দাঁড় করলেন। বিচারক নিম্নকণ্ঠে বলিলেন অপরাধীকে_ আপনি কি বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছেন? উত্তরে অপরাধী বলিলেন, ওহে দুনিয়ার জীবনে এরাজ্যের মহারাজা! আমি বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছি। রাজা জানতে চাইলেন কেন চুরি করিয়াছেন? অপরাধী বলিলেন,আমার চারজন সন্তান রয়েছে মহারাজা।আমি আমার সন্তানাদিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করিবার জন্য নিজের জমিজায়গা সব বিক্রি করিয়াছি,বর্তমানে আমার সন্তানগণ মাবুদের রহমতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত।রাজা! আমার তো সম্বল নাই আপনার মহলে তথা রাজ্যের যেকোন দপ্তরে আমার কোন সন্তানকে কর্ম দিতে,কেননা দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা মুদ্রাবিহীন কর্ম দিতে চাইলোনা আমার কোন সন্তানকে। অপরাধী আরো বলিলেন_ আমি বয়স্ক মানুষ,আমি কোন কর্ম করিতে পারিনা।আমার বড় সন্তানকে গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক পদে কর্ম দেবার জন্য ৫০০ শত দিরহাম প্রয়োজন ছিল,যা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা জুগান দিতে।তাই আমি সন্তানদের নাজানিয়ে বাদীর ৫০০ শত দিরহাম চুরি করিয়াছি মহারাজ। চুরির অপরাধে আপনি আমাকে যাহা শাস্তিসরূপ প্রদান করিবেন তা আমি মানিয়া নিব। তখন বিচারক রায় ফরমাইলেন এই যে,অপরাধী যেহেতু তার অপরাধ স্বীকার করেছেন তাই তাকে চুরির শাস্তি হাত কেটে ফেলার পরিবর্তে ৫০০ শত দিরহাম বাদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ত্রিশটি বেত্রাঘাত এবং ছয়মাসে কারাদণ্ড। বিচারক আরো ফরমাইলেন_ অপরাধীর সন্তানকে অত্র গ্রামের পাঠশালায় শিক্ষক নিয়োগ এবং মুদ্রা দাবীকৃত কর্মকর্তাকে অপরাধীর ত্রিশটি বেত্রাঘাত থেকে বিশটি বেত্রাঘাত ভোগ করতে হবে,বাকী দশটি বেত্রাঘাত বিচারক তথা মহারাজা নিজেই ভোগ করবেন। অতঃপর রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা যথানিয়মে রায় কার্যকর করিলেন। রাজা নিজ পিঠে দশটি বেত্রাঘাত ভোগ করিবার পর রাজমহলে ফিরে গেলেন। দীর্ঘ বিশবছর পর, গোটারাজ্যের প্রতিটা পাঠশালা থেকে উত্তম পাঠদানকারী শিক্ষক হইতে একজনমাত্র সেরা শিক্ষক নির্বাচিত করলেন। আর যিঁনি সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হইলেন তিঁনি এবং তাঁর পিতাকে রাজমহলে মহারাজা তলব করলে পিতাও পুত্র উভয়ে রাজমহলে প্রবেশ করলেন। নির্বাচিত সেরা শিক্ষকের পিতা মহারাজাকে দেখিয়া ভীত হইলেন এবং মহারাজা তাঁহার নিজ আসন ছাড়িয়া সেরা শিক্ষকের পিতার নিকটে আসিয়া বলিলেন আমি আপনার সমীপে ক্ষমা প্রার্থী। কেননা আমিই এই রাজ্যের মহারাজা,আমারি দায়িত্ব ছিল আপনি/আপনাদের যথাযথ খোঁজ খবর নেওয়ার।সুতরাং উভয় জাহানের মালিকের দরবারে শেষ বিচারের দিনে তাঁহারি কাছে আমাকে অপরাধী বানাবেন না,যেদিন তিঁনিই হবেন একমাত্র বিচারক। অবশেষ, রাজমহলে উপস্থিত সকলে স্রষ্টার প্রতি প্রেমও ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বুক ভাসালেন হৃদয় কাঁন্নায়। পিতাও পুত্র রাজমহল ত্যাগ করলেন সুন্দর এক ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় লয়ে। ..____________________]]> md.jamshed4470@gmail.com (নুরুন্নবী জামশেদ) ছোট গল্প Fri, 02 Dec 2016 16:32:18 +0600 পল্লীবাসিনীর প্রেমে। http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1448-2016-11-28-14-02-18 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1448-2016-11-28-14-02-18 ♥পল্লীবাসিনীর প্রেমে।♥ ভোরের সূর্যে রংধনু সোনালী ধানে ঝিকিমিকি মুক্তা ঝরে প্রভাত পাখিদের কচি কণ্ঠে প্রভুরি গান।মহল্লার বুকে মাঠির পথ তারি পাশে সাজানো সবুজ বৃক্ষ,নৌকা চালাইয়া খালে গাহিয়াছে মাঝি গান।মনজুড়ে যায় সেই পল্লী গাঁয়ে জন্মানো মানব/মানবির সমীপে করিলে কথন।সেই গাঁয়েরি নামযে ছিল পল্লীগ্রাম। পল্লীগ্রামের পাঠশালাতে পড়িতেন এক মায়াবিনী কন্যা,নাম যে তার পল্লবী।পল্লীবাসিনী পল্লবীর পিতা মহাজ্ঞানী পল্লীগ্রামের পাঠশালারি ছিল গুরু,যিঁনি নিত্য পাঠ দিতেন। পল্লবী ছিলেন সত্যবাদী,লজ্জাবতী,সৎ-চরিত্রপূজারি,গুণবান ধর্মীক এক রমণী। মায়াবিনী চেহরাও ধর্মীকতা দেখিয়া উক্ত পাঠশালায় পড়ুয়া তুরবত তার গুরুর কন্যা পল্লবীরে জানে-প্রাণে ভালবাসিয়া নিল। ধীরেধীরে তুরবতের ভালবাসা পল্লবীর পিতামাতা অবগত হয়িল এবং নারাজি প্রকাশ করিল।এতে তুরবত তার গুরুর চোখের পিপীলিকা বনিয়া গেল। প্রাপ্তবয়স্ক হয়িলে তুরবত পাঠগ্রহণ হইতে আপন ইচ্ছা শক্তি ফিরিয়া লইয়া নিজ পায়ে দাঁড়াইতে সফর করিলেন ভুবনের একভিন্ন প্রান্তে।সেখানে গমন করিয়াও তুরবত তার জানের মানবীকে ভুলিতে পারিল না। সপ্তাহ পার হয়িতে নাহয়িতে একেরপর এক পত্র প্রেরণ করিতেন তুরবত তার গুরুর স্থায়ী/অস্থায়ী বাসগৃহে। এতে ক্ষিপ্তও তিক্ত মহাজ্ঞানী গুরুও তাঁহার পরিবারবর্গ,তবুও শতবাঁধার বাঁধন ছিড়িয়া তুরবত তার মনের কথা বলিতেন। সৃষ্টকারীর সৃষ্টি মহাজ্ঞানী গুরুজনের মানবদেহের মহা-গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হইয়া বৈদ্য-কবিরাজের উভয় চিকিৎসায় বিপদগ্রস্ত হয়িলে উন্নত চিকিৎসার জন্যি উন্নত স্বাস্থ্য-কেন্দ্রে ভর্তি হয়িলেন। এসংবাদ কোন একদিন তুরবতের কানে পৌঁছালে তুরবত তার অস্থায়ী বাসস্থান ছাড়িয়া ছুটিয়ে গেলেন গুরুকে দেখিতে স্বাস্থ্য-কেন্দ্রের দিকে। জলপথ-স্থলপথ আপদবিপদ সর্বপথ পাড়ি দিয়া তুরবত পৌঁছালেন গুরুর মৃত্যুপথের ধারে,সেখানে হৃদয়ভাঙ্গা জলচোখে পল্লবীও তার আপন-স্বজন সকলে উপনীত। স্বাস্থ্য-কেন্দ্রের মহা-স্বাস্থ্যজ্ঞানী লিখিত দিলেন মহাজ্ঞানী গুরুর উভয় কিডনি নষ্ট হইয়া গেল। কোন এক পল্লবীর স্বজন তখনি বলিলেন চাইনা মোরা পল্লবীর পিতা বাঁচুক তুরবতের অঙ্গ লইয়া,যখনি বলিতে লাগিলেন তুরবত তার একটি কিডনি দান করিয়া তার গুরুর প্রাণ বাঁচাবে। স্বাস্থ্যজ্ঞানীর কর্ম যেহেতু রোগীরজ্ঞান ফিরানো তাই তিঁনি বলিলেন তুরবত যেই হউক আমি তার কিডনি লইয়া মহাজ্ঞানীর অঙ্গে স্থানান্তর করিয়া তুরবতের গুরুর জীবন বাঁচাতে চেষ্টা করিব। যথানিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যজ্ঞানী তুরবতকে জিঙ্গাসা করিলেন তুমি বিনিময়ে কি চাও? জবাবে তুরবত বলিলেন:_গুরু মোরে শিখিয়ে ছিলেন ধর্মীয় জ্ঞান,শিক্ষা দিইয়া ছিল শিক্ষা-গুরুর মর্যাদা।সুতরাং চাইনা আমি মহাকিছু,আমি চাই আমারি মূল্যবান অঙ্গ দিইয়া আমারি গুরু বাঁচুক এভুবনে একটি পলক ফেলিবার জন্য,এতে আমি হব মহা ধন্য। স্বাস্থ্যজ্ঞানী মালিকের নাম লইয়া তুরবতের দেহ হতে একটি মাত্র কিডনি কাটিয়া নিলেন।কিডনিখানা স্বাস্থ্যজ্ঞানী মহাযত্নে সংরক্ষণ করিয়া তুরবতের গুরুর অঙ্গে বসাইয়া দিলেন। এরিফলে ধীরেধীরে পল্লবীর পিতার জ্ঞান ফিরিল এবং দুচোখ মেলিয়া দেখিলেন সুন্দর শহরও এক নয়া-দিগন্ত।মহাজ্ঞানীর স্বজন-পুত্র উভয়ের মুখে হাসি'র বন্যা যেন বহিতে লাগিল,সেক্ষণটি ছিল এক পৃথিবীর মহাপ্রাপ্তি সুখে'র ক্ষণ। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পার করিবার পর পল্লবীর পিতা নিজ গাঁয়েরি আপন গৃহে ফিরিলেন। সুস্থ হইয়া কিছুদিন পর পল্লীগাঁয়ের পথ বেয়ে পল্লবীর পিতা হাটতে গেলে গাঁয়ের লোকেরা কহিলেন মহাজ্ঞানী সাহেব আপনি তুরবতের দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি লইয়া এখন জীবনযাপন করিতেছেন। একথা শুনিয়া মহাজ্ঞানীর জ্ঞানের দরজার বন্ধ তালা নাড়া দিয়া খুলিয়া ফেলিলেন। অতঃপর পত্রের মারফতে মহাজ্ঞানী তুরবতকে তাঁহারি বাসগৃহে আমন্ত্রণ জানালেন। তুরবত তার শিক্ষাগুরুর আমন্ত্রণ পাইয়া পল্লবীদের ঘরে গমন করিলেন।পল্লবী,পল্লবীর মা,বোন-ভাই সকলে চোখ মিটমিট করিতে লাগিল। দানাপানি স্বল্প খাইতে দিইয়া মহাজ্ঞানী তুরবতকে কহিলেন:_ তুরবত তুমি কি পল্লবীরে পাইবার আশা বুকে বাঁধিয়া আমারে তোমারি কিডনি দিইয়া বাঁচাইয়েছ? জবাবে তুরবত নিম্নকণ্ঠে বলিলেন:_ হে মোর মহাগুরু,আমি আপনার কন্যারে পাইবার জন্যি আপনাকে কিডনি দান করিনাই।বরং আপনি আমার শিক্ষক,আপনি আমার দুনিয়াও আখেরাতের পথ চলার প্রদীপ তাই আমি আপনাকে কিডনি দান করিয়াছি।বর্তমান সমাজে আমি আপনাকে এবং আপনার সহধর্মীনিকে এই জন্যি ভালবাসি যে,পল্লবীর মত গুণবান কন্যার পিতা-মাথা হওয়ায়।পল্লবীরে পাই বা নাপাই আপনি আমার গুরুজন,তাই আমি আপনাকে আমরণ ভালবাসিয়া যাইব। হ্যাঁ,যদি চান পুণ্যবান পল্লবীরে আমার জীবনে দিইয়া আমার জীবনকে আরো রঙিন করিতে!!! তাহলে আমি "না" বলিবনা। একথা বলিবার শেষে একটা সালাম দিইয়া তুরবত পল্লবীদের গৃহ হইতে বাহির হইয়া ভিন্ন এক-অজানা মরুর পথের পথিক হয়িল।]]> md.jamshed4470@gmail.com (নুরুন্নবী জামশেদ) ছোট গল্প Mon, 28 Nov 2016 20:00:21 +0600 সুরাইয়ার পাঠশালা http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1377-2016-09-15-23-49-28 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1377-2016-09-15-23-49-28 ছোট্ট খুকি সুরাইয়া। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। ও পেটে থাকতেই তার মায়ের খেয়াল ছিল সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। দুনিয়াবী শিক্ষায় লাভের চেয়ে ক্ষতিট আশংকাই বেশী। অন্যদিকে দ্বীনী শিক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতি বলতে কোন শব্দ নেই। সুরাইয়ার বয়স পাঁচ পেরিয়ে এখন ছয়। পাশের গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব মেয়েদের জন্য একটি মাদরাসা খুলেছেন।আভ্যন্তরীণ তত্বাবধানে ইমাম সাহেবের স্ত্রী ও কয়েকজন মহিলা সহযোগী রয়েছেন শিক্ষিকা হিসাবে।ছাত্রীরা তাদের খালাম্মা বলে ডাকে। ইমাম সাহেব খুব ভাল মানুষ এবং জাঁদরেল আলেম । পুরো ইউনিয় জুড়ে রয়েছে তার নামডাক। সুরাইয়াকে ইমাম সাহেবের মাদরাসাতেই পড়াবেন তার মা-বাবা।এই উদ্দেশ্যে একদিন মাদরাসাটা ভালভাবে দেখে আসে সুরাইয়ার মা। পরিবেশ পছন্দমত হয়েছে। সুরাইয়াকে ভর্তি করানো হলো নূরানী প্রথম শ্রেণীতে অনাবাসিক হিসাবে।বাবা সকালে সাইকেলে করে দিয়ে আসেন, আবার দুপুরবেলা খাবার নিয়ে যান।সন্ধেবেলা আবার নিয়ে আসেন। পড়ায় মনোযোগ আছে তার।আচরণেও অমায়িক। এসবের পিছনে তার মায়ের অবদান যথেষ্ট রয়েছে।প্রত্যেক নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। সুরাইয়া ক্লাসেও সেরা। সবার ভাল বন্ধু।সবসময় সহাস্যমুখে কথা বলা তার বিশেষ ভূষণ। কারো দূঃখে ব্যথিতা হয়ে দূঃখ ঘুচানোতেও লেগে পড়ে সাধ্যমত।একদিনের ঘটনা। আফীফা।তার সহপাঠী।সেও তার মতন হাসিখুশি থাকে।কিন্তু আজকে তার চেহারাটা একটু অন্যরকম দেখাচ্ছিল।মনে হচ্ছিল খুব পেরেশান সে।সুরাইয়া কাছে আসল আফীফার। -মুখটা অমন করে রাখছ কেন, কী হয়েছে তোমার, আম্মু বকা দিয়েছে নাকি আব্বু মেরেছে? সুরাইয়া আফীফাকে বলল। কোন উত্তর নেই আফীফার। চোখ থেকে মুক্তোদানার মত কয়েক ফোটা পড়ল। কিছু বলছে না,শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিল সুরাইয়া। কাঁদো কাঁদো গলায় ভাঙা ভাঙা স্বরে আফীফা বলল,বৃষ্টিতে ভিজে আমার বই ছিড়ে গেছে।আম্মু আমাকে বই কিনে দেয়না।বলে যে টাকা নেই। বই দিতে পারব না।এখন আমি কী দিয়ে পড়ব। সুরাইয়া একটু চিন্তা করল,কিছু করা যায় কিনা। একটু পর বলল, আজকে তুমি আমি একসাথে বসব।আমার বই দিয়েই দুজনে পড়ব। আফীফারা খুব গরীব। তার মা মাদরাসার পাচকিনী। বাবা রিকশা চালাত মেইনরোডে।একদিন এক লরির সাথে এক্সিডেন্ট হয়।মারা যায় তার বাবা ও দুইজন যাত্রী। তার মায়ের কাছে টাকা নেই এখন।তাই বই কিনে দিতে পারছে না।সবার বই আছে ষথচ তার বই এই কথা ভেবে খারাপ লাগছিল আফীফার। বাবার সাথে বাড়ি আসল সুরাইয়া। রাতে খানা খাওয়ার সময় আফীফার কথা বলল। মেয়ের কথা শুনে মা বলল,হয়ত তারা অনেক গরীব। আফীফার বই কেনার টাকা হয়ত নেই।সুরাইয়ার ইচ্ছা,আফীফার যেহেতু বই নেই,বইয়ের জন্য সে কাঁদে এজন্য তাকে বই পাইয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। মাকে বলল সুরাইয়া,আম্মু বই কিনতে অনেক টাকা লাগে না বোধ হয়।এক সিট বই আফীফাকে দেওয়া যায় না! ও খুব কান্না করছিল বইয়ের জন্য আমারো খুব খারাপ লাগছিল। মেয়ের কথা শুনে মা মিটিমিটি হাসে।অন্তরে তৃপ্তি অনুভব করে মেয়ের এমন উদ্যোগের কারণে। মা তাকে আশ্বাস দেয় যে,আফীফার বইয়ের ব্যবস্থা করে দিবে। পরদিন আফীফার জন্যেও একসিট বই কিনে নিয়ে যায় সুরাইয়ার আব্বু।ও প্রথমে নিতে চায় নি।সুরাইয়ার জোড়াজুড়িতে নিয়ে নেয়।]]> alrazimohib@gmail.com (মুহিব্বুল্লাহ খন্দকার) ছোট গল্প Fri, 16 Sep 2016 05:47:33 +0600 "চাঁদ হাসে তাহার মুখ লুকাইতে।" http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1336-2016-06-22-03-20-44 http://banglasp.com/short-story/3-short-story/1336-2016-06-22-03-20-44 "চাঁদ হাসে তাহার মুখ লুকাইতে।" স্রষ্টার সৃষ্টি জগতকে সাজাইতে স্রষ্টা সূর্যোদয়ের ফলে ঘটাইলো সুন্দর একটি দিন।বছরে বারোটি মাস,ইহাতে স্রষ্টা দান করিলেন একটি বরকতময়ী মাস।এ মাসে প্রবাসে অনেকেই দিন কাটায় ঘুমাইয়া।আপন ইচ্ছায় নিজেও কাটাইয়াছি বহুদিন ঘুমায়ে,তাহা আর নয়। আজ আপন ইচ্ছায় মোড় ফিরাইয়া নিলাম।বরকতময়ী সেহরী খাইবার পর ইবাদাত শেষে,নিজ পায়ে মধ্যগতিতে হাঁটিয়াচলি কৃত্রিমগড়া বাগিচায়।জনহীন বাগীচায় প্রভাত পাখিদের অতি মধুর কিচিরমিচির শব্দ শ্রবণে মুগ্ধ মনেপ্রাণে বসিয়া পরিলাম বাগীচার এক কোণে। ধীরেধীরে দিগন্তের পূর্বাকাশে সূর্য তাহার আপন গতিতে উদয় হইতে নিজ চক্ষুদ্বয়ে উপভোগ করিতে লাগিলাম।হঠাৎ দেখিলাম সূর্যের কিরণ পাইয়া চাঁদ হাসে তাঁহার মুখ লুকাইতে।আহ,,কি অপূর্ব স্রষ্টার সূর্যোদয়!কি দারুণ ক্ষণ তখন অতিবাহিত হইতে লাগিলো।আহ_কি সুন্দর নাজানি খোদা তুমি। হে রব,হে খোদা,হে আমার প্রভু-আমি অধম, প্রাণ যায়য়ায় মরি করিতে চুম্বন তোমারি চরণ।]]> md.jamshed4470@gmail.com (নুরুন্নবী জামশেদ) ছোট গল্প Wed, 22 Jun 2016 09:18:38 +0600