সোমবার, 24 আগষ্ট 2020 16:52

কোরবানি নির্বাচিত

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(0 টি ভোট)
                ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
        দুর্বল! ভীরু! চুপ রহো, ওহো খাম্‌খা ক্ষুব্ধ মন!
             ধ্বনি ওঠে রণি দূর বাণীর,–
             আজিকার এ খুন কোর্‌বানির!
             দুম্বা-শির      রুম্-বাসীর
        শহীদের শির-সেরা আজি। –রহমান কি রুদ্র নন?
             বাস্‍! চুপ খামোশ রোদন!
আজ  শোর ওঠে জোর 'খুন দে, জান দে, শির দে বৎস' শোন!
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
             খঞ্জর মারো গর্দানেই,
              পঞ্জরে আজি দরদ নেই,
              মর্দানি'ই পর্দা নেই
        ডর্‌তা নেই আজ খুন্-খারাবিতে রক্ত-লুব্ধ মন!
              খুনে  খেল্‌ব খুন্-মাতন!
দুনো  উন্মাদনাতে সত্য মুক্তি আন্‌তে যুঝ্‌র রণ।
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

 ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
             চড়েছে খুন আজ খুনিয়ারার
             মুস্‌লিমে সারা দুনিয়াটার।
             'জুল্‌ফেকার' খুল্‌বে তার
     দু'ধারী ধার্‌ শেরে-খোদার রক্তে-পূত-বদন!
             খনে আজকে রুধ্‌ব মন!
ওরে  শক্তি-হস্তে মুক্তি, শক্তি রক্তে সুপ্ত শোন্!
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
             আস্তানা সিধা রাস্তা নয়,
             'আজাদি' মেলে না পস্তানোয়!
             দস্তা নয় সে     সস্তা নয়!
     হত্যা নয় কি মৃত্যুও? তবে রক্ত-লুব্ধ কোন্
             কাঁদে-শক্তি-দুঃস্থ শোন্–

'এয়্‌  ইব্‌রাহিম্ আজ কোর্‌বানি কর শ্রেষ্ঠ পুত্রধন!'
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
          এ তো নহে লোহু তরবারের
          ঘাতক জালিম জোর্‌বারের!
          কোরবানের জোর-জানের
     খুন এ যে, এতে গোর্দা ঢের রে, এ ত্যাগে 'বুদ্ধ' মন!
          এতে    মা রাখে পুত্র পণ্!
তাই  জননী হাজেরা বেটারে পরাল বলির পূত বসন!
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
          এই দিনই 'মীনা'-ময়দানে
          পুত্র-স্নেহের গর্দানে
          ছুরি হেনে খুন ক্ষরিয়ে নে
     রেখেছে আব্বা ইব্‌রাহিম্ সে আপনা রুদ্র পণ!
     ছি ছি! কেঁপো না ক্ষুদ্র মন!
আজ  জল্লাদ নয়, প্রহলাদ সম মোল্লা খুন-বদন!
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
        দ্যাখ্    কেঁপেছে 'আরশ' আস্‌মানে,
                  মন-খুনি কি রে রাশ মানে?
                  ত্রাস প্রাণে?-তবে রাস্তা নে‍!
    প্রলয়- বিষাণ কিয়ামতে তবে বাজাবে কোন্ বোধন?
    সেকি       সৃষ্টি-সংশোধন?
ওরে  তাথিয়া তাথিয়া নাচে ভৈরব বাজে ডম্বরু শোন্!–
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
          মুস্‌লিম-রণ-ডঙ্কা সে,
          খুন্ দেখে করে শঙ্কা কে?
          টঙ্কারে অসি ঝঙ্কারে
ওরে  হুঙ্কারে, ভাঙি গড়া ভীম কারা লড়ব রণ-মরণ!
     ঢালে    বাজ্‌বে ঝন্-ঝনন!
ওরে  সত্য মুক্তি স্বাধীনতা দেবে এই সে খুন-মোচন!
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।

ওরে  হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।
          জোর চাই আর যাচ্‌না নয়
          কোরবানি-দিন আজ না ওই?
          বাজ্‌না কই? সাজ্‌না কই?
কাজ না আজিকে জান্ মাল দিয়ে মুক্তির উদ্ধরণ?
          বল্– 'যুঝ্‌ব জান্ ভি পণ!'
ঐ   খুনের খুঁটিতে কল্যাণ-কেতু, লক্ষ্য ঐ তোরণ!
আজ  আল্লার নামে জান কোরবানে ঈদের পূত বোধন।
ওরে   হত্যা নয় আজ 'সত্যাগ্রহ', শক্তির উদ্‌বোধন।            
            
99 বার পড়া হয়েছে
শেয়ার করুন
কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম (মে ২৪, ১৮৯৯ – আগস্ট ২৯, ১৯৭৬) অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে –- কাজেই "বিদ্রোহী কবি", তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকে। নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয়। স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াযযিন হিসেবে কাজও করেছিলেন। কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনি কবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এসময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মত কবিতা; ধূমকেতুর মত সাময়িকী। জেলে বন্দী হলে পর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী, এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। ধার্মিক মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। ধর্মীয় লিঙ্গভেদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। ছোট গল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হল ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল, এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামাসংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন। নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা "নজরুল গীতি" নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়। মধ্যবয়সে তিনি পিক্‌স ডিজিজে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন। এসময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (উৎসঃ উইকিপিডিয়া)

কাজী নজরুল ইসলাম এর সর্বশেষ লেখা

এই বিভাগে আরো: « বিবেক ছাত্রদলের গান »

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.