সোমবার, 02 এপ্রিল 2018 23:45

কিশোর_মনে_স্বাধীনতা

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(1 ভোট)
                কিশোর_মনে_স্বাধীনতা
                          মোঃ মোশাররফ হোসেন

হাবিব আর জহির স্কুলের মাঠে বসে গল্প করছিল।এমন সময় সিজান সেখানে হাজির হলো।কি রে কি করছিস?তুই এসেছিস ভালোই হলো আমরা মনে মনে তোর কথা ভাবছিলাম।আমরা আমাদের গ্রামে আমাদের সমবয়সী কিশোরদের উদ্যোগে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ছাড়তে চাইছি।তুই কি বলিস...?তিন জনের বাড়ি একই গ্রামে,হাবিব আর জহির ক্লাস সেভেন এ পড়ে।সিজান বয়সে ওদের সিনিয়র হলেও এক সাথেই চলাফেরা ও একই ক্লাসে পড়ে।সিজান বলে সে তো বড়ই ভাল উদ্যোগ..কিন্তু আমাদের বড়দের সমর্থন লাগবে।আর কবে করতে চাইছো।আচ্ছা তুই কবে ভাল বলে মনে করিস।আজ যেহেতু ২১ শে মার্চ আমরা ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে আয়োজন করি।এতে করে সকলে স্কুল বন্ধ থাকবে আবার বড়দের সমর্থন পেতে বেগ পেতে হবে না।এছাড়া আমরা ঐ দিন বড়দের কাছ থেকে স্বাধীনতা সম্পর্কে কিছু জানতে পারব।হাবিব জহির হঠাৎ বলে উঠলো দারুন আইডিয়া। এই না হয় গুরু....
কিন্ত...।কিন্তু কি আবার?আমাদের জালাল,রিয়াজ,সবার সাথে কথা বলে চাঁদা উঠিয়ে ফেলা উচিৎ।আর প্রধান অতিথি নির্বাচন।সবার সাথে কথা বলে চাঁদা তোলা হলো।প্রধান অতিথি নির্বাচন করা হলো পাশের ইউনিয়নের দাদা সাবেক সফল উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তনাই মোল্লাকে।তাকে আনার ভার দেয়া হলো মতিউর কাকাকে।তার শশুর এলাকার লোক বলে কথা।
২৬শে মার্চ সকাল হতেই সবাই মাঠে এসে হাজির ভোর বেলাই সবায় মিলে মাঠ সাজিয়ে রেখেছে।প্রধাব অতিথি ও বিশেষ মেহমানদের জন্য বসার জায়গাও করেছে।এখন শুধু অতিথিদের অপেক্ষা...।কিছুক্ষনের মধ্য প্রধান অতিথিসহ সবাই হাজির হলো।সকল খেলোয়াররা ফুল দিয়ে প্রধান অতিথিকে বরন করে নেয়।সকলের অনুমতি নিয়ে খেলা শুরু হলো।খেলায় সিজান-জালাল প্যানেলের এক দল আর হাবিব-জহির প্যানেলের আরেক দল।দুই দলের খেলা....।বাছাই পর্বে শেষ হয়েছে।আজ ফাইনাল।মোট দল ছিল পাঁচটি।সেখান থেকে এই দুই দল ফাইনালে।টানটান উত্তেজনার মাঝে খেলা শেষ হলো।বিজয়ী হলো সিজান-জালাল প্যানেল সবাই করতালি দিয়ে স্বাগত জানালো।খেলা শেষে খেলোয়ারদের পুরষ্কার তুলে দিবেন প্রধান অতিথি।তার আগে স্বাধীনতা নিয়ে কিছু জানতে চায় সকলে।যে উদ্দেশ্যে আজকের টুর্নামেন্ট।প্রধান অতিথি দাড়ালেন সালাম দিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মা মাগফেরাত কামনা করে বলতে লাগলেন....
আজ আমার জাজিরা পৌসভায় একটি সভা ছিল কিন্তু আমি আজ সেখানে না গিয়ে এই জায়গায় এসেছি। কেন এসেছি কেউ কি বলতে পারবেন?জানি না..।আমি এজন্য এখানে এসছি আমার ছোট দাদু ভাইরা দেশকে ভালবেসে স্বাধীনতা দিবসে এই আয়োজন করেছে সেখানে আমি না এসে পারি কি করে।কথাটি বলে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন।মতি গিয়ে যখন আমাকে কথাটি বলল আমি খুব খুশি হয়ছি।এবং আমি মতিকে কথা দিয়েছি।আমার যত বড় কাজ থাক আমি যাবো।যা বড়রাও চিন্তা করে না তা আমার দাদুরা করেছে।আমার দাদু ভাইদেরও আমার পক্ষ থেকে একটা সালাম।এই দেশ আমরা রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি,যুদ্ধ করেছি এ স্বাধীনতার জন্য।কথা গুলো যখন বলছিল জহিরের মনে হচ্ছিল ও ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ভাষন শুনছে।অনেক কথা বললেন।শেষে বলে গেলেন এ দেশ আমাদের এর রক্ষার দায়িত্বও আমাদের।দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিক মনে রাখতে হবে স্বাধীতার চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।কেননা গ্রাম্য একটা প্রবাদ আছে ঘরের ইঁন্দুরে বান কাডলে তাহ জোড়ানো কঠিন।ঠিক তেমনি স্বাধীনতার সময় আমরা যুদ্ধ করছি পাক-বাহিনীর সাথে আর এখন যুদ্ধ নিজেদের মাঝে,সারা বিশ্বজুড়ে।যার দায়িত্ব আামার দাদু ভাইদের,নতুন প্রজন্মের উপর।আজকের এই আয়োজন আমার খুব ভাল লেগেছে।আমার আরো ভাল লাগলো এ জেনে যে আপনাদের এই গ্রাম থেকে একজন সেনাবাহিনীতে কাজ করছে।যারা জীবনকে বাজি রেখে দেশের জন্য লড়ে তেমনি একজন আপনাদের গ্রামের মিজান.....।জয় বাংলা ।এই বলে বক্তৃতা শেষ করে বিজয়ীদল ও রানার্সআপ দলকে পুরস্কার তুলে দিল।ম্যাচ সেরা পুরস্কার পেল হাবিব।
রাতে ঘুমাতে গিয়ে কি যেন ভাবছে।কি ভাবছে?পুরস্কার নেয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা দাদু তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে দোয়া করেছিল।আর তখন শরীরটা যেন কেমন শিহরন দিয়ে উঠল। কিন্তু এর আগে অনেকেই মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করেছে কখনও এমন হয়নি তো।আজ কেন..?ভাবতে ভাবতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়ে হাবিব।            
            
378 বার পড়া হয়েছে
শেয়ার করুন
মোঃ মোশাররফ হোসেন

আমার নাম মোঃ মোশাররফ হোসেন।পিতার নাম আঃ মান্নান বেপারী মাতার নাম মজিদা বেগম। ২৫ ডিসেম্বর শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানাধীন বি কে নগর কাজী কান্দি মাতুল আলয় জন্ম গ্রহন করি।পৈত্রিক নিবাস একই থানার পূর্ব নাওডোবা মঙ্গল খার কান্দি।ভাইবোনের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। এলাকার চরখাগুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেনি পাশ করি।পরে পূ্র্ব নাওডোবা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ভর্তি হলেও বি কে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জে এস সি এবং পূ্র্ব নাওডোবা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি পাশ করি।বর্তমান ঢাকায় জিনজিরা পি. এম. পাইলট স্কুল এ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক চূড়ান্ত বর্ষে। পারিবারিক ও অন্যান্য কারনে পড়ালেখা বাঁধা প্রাপ্ত হয়।নিজ চেষ্টায় পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ায় পড়ালেখার গতি ধীরস্থির।এছাড়াও আমার এখন বেশি পড়তে ভাল লাগে না।তবে সাহিত্য: জীবন কাহিনী,গল্প, উপন্যাস, ছোট গল্প, স্মৃতিচারন মুলক ও স্বাবলম্বী ভাষায় লেখা বই পড়তে বেশ ভাল লাগে।আমার স্বপ্ন ছিল অনেক কিন্তু সৃষ্টি প্রদত্ত কিছু গুন ও পারিপার্শ্বিক কারনে সবার সব সম্ভব হয় না।এখন আমার স্বপ্ন সাংবাদিক হবো এবং পাশাপাশি লেখক।ছোটবেলা চাচাতো ভাইয়ের মুখে তার বন্ধুর ডাইরি ভর্তি লেখার গল্প শুনি আর স্বপ্ন দেখি আমিও লিখব।সেই স্বপ্ন থেকেই আমার কলম গতিশীল। তাছাড়া আমার লেখনির পিছনে আরো একজনের কথা না বললেই নয়, সে হলো আমার আপন বন্ধু, বন্ধু সুলভ বোন মোসাঃ রুমা আক্তার।যার উত্সাহ আমার শক্তি হিসেবে কাজ করে। মা-বাবা, বড় ভাইয়ের ভালবাসাই আমার জীবনের সম্পদ।

3 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.