সোমবার, 09 ফেব্রুয়ারী 2015 12:03

আমার গ্রাম বদরখালী।

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(2 টি ভোট)
                আমার গ্রাম বদরখালী।


নদীর তীঁরে অবস্থিত আমার এই গ্রাম।চকরিয়া থানা থেকে প্রায় ১৬কিলোমিটার পশ্চিমে সুন্দর সেই সড়কটির শেষ প্রান্তে।

বদরখালীর প্রাণ কেন্দ্রে তথা বদরখালীর পশ্চিম নদীর তীরে সুন্দর একটি বাজার রয়েছে।যেখানে শুত্রুবার এবং মঙ্গলবার হাঁট বসে।দূর দূরান্ত থেকে লোক জন আসে ত্রূয়,বিত্রূয় করার জন্য।সেই বদরখালী বাজারে পূর্ব দিক দিয়ে ডুকিতে গেলেই চোখে পড়ে বড় একটি দীঘি।রাস্তার পাশেই বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চবিদ্যালয় এবং তাঁর মাঠ।যেখানে বিকেল বেলায় শত লোক খেলতে আসে।আবার কেউ খেলা উপভোগ করতে আসে।মনটা জুড়াত যখন খেলোয়াড় এবং খেলা উপভোগ কারীদের হৈ ছৈ'য়ের মাঝে হাঁসি শুনতাম।সেই মাঠে দুই ঈদের জামাত হয়।কত মায়া ময়ে থাকতাম সুন্দর একটি পরিবেশে।

স্কুলের পরেই বদরখালী ১৪নং ইউনিয়ন পরিষদ।এবং বদরখালী কৃষি ও উপনিবেশ সমবায় সমিতি(এশিয়ার বৃহত্তম)।যেটাকে প্রতিষ্টিত করেছিল ২৬২ জন(হয়তো এর চেয়ে বেশিও হতে পারে) আমাদের তথা বদরখালী বাসির মুরব্বিরা।আজীবন তাঁদেরকে সম্মানের সাথে স্মরণ করে যাব।আরো রয়েছে বদরখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বদরখালী এতিমখানা ও হেফজখানা।যেখান হতে প্রতি বছর অনেক ছেলেরা পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়।দক্ষিণে অবস্হিত আমার শিক্ষাঙ্গণ বদরখালী মজহারুস্ সুন্নাহ সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা।যেটাকে সংক্ষেপে বদরখালী এম,এস ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা বলা হয়।সেখান থেকে হাজারো দ্বীনি আলেম অতীতে বাহির হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে।যারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা বলেন,থানা বলেন,এমন কি গ্রামে গিয়েও দ্বীনি শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছে।এই মাদ্রাসায় জড়িয়ে আছে আমার ভালবাসার স্মৃতি।এর পাশেই রয়েছে লিটল জুয়েল্স সমবায় প্রি-ক্যাডেট স্কুল।সেটিও আমার ছোট বেলার বিদ্যালয়।বাজারের পূর্ব পাশে রয়েছে বদরখালী কলেজ এবং ইকরা একাডেমী।এর বাহিরে আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে।আর তাই বদরখালীতে শিক্ষার হার বেশি।এই গ্রামের বহু সন্তান বাংলাদের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্টানে কর্মরত থেকে বাংলার মানুষকে সেবা দিচ্ছে।এমন কি বাংলার মানুষকে নিরাপত্তা প্রদানও করতেছে।

আমার গ্রাম বদরখালীর মানুষ একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে ভুলে না।নিরাপত্তার দিক থেকেও বদরখালী একটি শান্তি পূর্ণ গ্রাম।তাই তো বদরখালীতে ভিন্ন গ্রামের ছেলে মেয়েরা এসে শিক্ষা অর্জন করে যাচ্ছে।বদরখালীর মানুষ আইন শৃংখলা মেনে চলে।

বাজারের দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে বদরখালী হয়ে মহেশখালী সেতু।উত্তরে জেডী ঘাঁট এবং নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি(যে এলাকা কে আমি শান্তি নগর বলি)সব শান্তি ফিরে পেতাম সে দিকে গেলে।বদরখালীর পশ্চিম,দক্ষিণ,পূর্বে ঘিরে প্রাকৃতিক নদী রয়েছে।

প্রাকৃতিক দিক থেকে দেখতে পায় যখন ধান কাঁটতো কৃষকেরা।ছোট ছোট বাচ্চাঁরা পানির কলসি নিয়ে যেত কৃষকদের জন্য।জেলেরা খালে মাছ ধরিতো।আরেকটি আশ্চার্য্য হতাম আলী ও তার দল বল-সহ মাছ ধরিত শুকনো বীলের অল্প পানিতে।যেখানে মানুষ কল্পনাও করতো না যে,সেখানে মাছ থাকতে পারে।লবণ কৃষক লবণ তুলিত।আর সে লবণ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার মীল ফেক্টরীতে যায়।এবং সুপার মার্কেট-সহ ছোট ছোট দোকানে সেই লবণ বিক্রি হয়।আর তা খেয়ে বাংলাদেশের মানুষ তৃপ্তি মেটায়।অনেক সময় বিদেশের সুপার মার্কেট গুলোতে চোখে পড়ে বাংলাদেশের লবণ।হয়তো সেখানেও আমার গ্রাম বদরখালীর লবণ থাকতে পারে।

যখন কোন পত্রিকায় বা টেলিভিশনে "বদরখালী"লিখা দেখি বা শুনি,তখন খুবেই আনন্দ উপভোগ করি।আরো আনন্দ উপভোগ করি-যখন ইন্টারনেটে গুগল মানচিত্রে গিয়ে বদরখালী,চিটাগাং লিখে অনুসন্ধান করি।তখন "আমার গ্রাম বদরখালী"র নাম সহ রাস্তা-ঘাট,খাঁল-বীল,নদী-নালা,ঘর-বাড়ী,গাছ-পালা ইত্যাদি দেখতে পাই।আরো দেখিতে পাই আমার বাপের সেই টিনের চালের ঘরটিও।
এমন একটি গ্রামে কার না ভাল লাগতে পারে!এই গ্রামেই জড়িয়ে আছে হাজার সুখের স্মৃতি।

সুতারাং,উক্ত আমার গ্রাম বদরখালী নিয়ে লিখতে গেলে অনেক লেখা যায়।কাগজের পাতা শেষ হবে,লেখা শেষ হবে না।

আমার গ্রাম বদরখালী এবং বদরখালীর মানুষকে অনেক স্মরণ করি।হে আল্লাহ "আমার গ্রাম বদরখালী"এবং বদরখালীর মানুষকে শান্তিতে ও নিরাপদে রাখিও।

হে মাবুদ,
প্রাকৃতিক ঘূর্রিঝড়-সহ বড় বড় দূর্যোগ থেকে মুক্ত ও হেফাজতে রাখিও।আমার মৃত্যু এবং দাফন যেন "আমার গ্রাম বদরখালী"র মাঠিতে হয় মাবুদ।কবুল কর মাবুদ কবুল কর।            
            
1200 বার পড়া হয়েছে সর্বশেষ হালনাগাদ বৃহষ্পতিবার, 27 আগষ্ট 2020 17:32
শেয়ার করুন
নুরুন্নবী জামশেদ

আমি মুসলিম।মুসলিম ঘরে আমার জন্ম। নাম:-মোহাম্মদ নুরুন্নবী বিন হাছান (জামশেদ), পিতার নাম:-মোহাম্মদ হাছান আলী, মায়ের নাম:-রাশেদা খানম। জন্ম তারিখ:-০২/০৪/১৯৯২ ইং, গ্রাম:-ছনুয়া পাড়া, ডাক+ইউনিয়ন:-বদর খালী(৪৭৪২), উপজেলা:-চকরিয়া।, জেলা:-কক্সবাজার। শিক্ষাঙ্গণ:-বদরখালী এম,এস ফাজিল (ডিগ্রী)মাদ্রাসা। মোবাইল নাম্বার:০০৯৬৮-৯৩৩২১৬১০ ২০১১ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড হতে দাখিল(GPA=4.56)শেষ করি। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আলিমের টেষ্ট পরীক্ষা শেষ করি,ফাইনাল দেওয়ার পূর্বে,.. ১৩/০১/২০১৩ ইং তারিখ আমি আমার জন্ম ভুমি প্রাণে দেশ,বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের উদ্দেশ্যে ওমান চলে আসি।মনের যত কথা কিছু লেখি।

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.