শনিবার, 17 অক্টোবর 2020 18:55

মাছরাঙার বিয়ে নির্বাচিত

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(0 টি ভোট)
                মাছরাঙার বিয়ে

ক'দিন ধরে মাছরাঙা শুধু মাছ শিকার করতে পারছে। অন্যরা তেমন সুবিধে করতে পারছে না। কাকডাকা ভোর থেকে ছোট্ট নদী তুরাগের তীরে বহু আশা করে, বাঁচার তাগিদে অন্যদিনের মতো আজও মাছরাঙার পাশাপাশি বক, সারস, দেশি হাঁস, রাজহাঁস, পানকৌড়ি সকলেই মাছশিকারে এসেছে। মাছরাঙার সাথে দুটি ছানাও আজ এসেছে। নদীর সৌন্দর্য, পাখিদের মাছশিকার ইত্যাদি দেখার জন্য তাদের বায়না ছিল। আজ তাদের জন্য সেই মহেন্দ্রক্ষণ। সকাল থেকেই মাছরাঙা  ভালোই শিকার করছিল। বক, সারসপাখির আজ মাথায় হাত। তারা কোনো মাছই ধরতে পারছে না। মৃদুবাতাসে পানিতে ঢেউ বয়ে চলায়, তারা মাছের অবস্থান নির্ণয় করতে পারছে না। কিন্তু জঠরজ্বালা ক্রমে চরম আকার ধারণ করছে। হাঁসগুলো খাবার সংগ্রহে তেমন বাছবিচার না করায় তাদের তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। ব্যাঙ, কেঁচো, ছোটমাছ যখন যা পাচ্ছে গোগ্রাসে গলদকরণ করছে। পেটপুরে অলস দুপুরের রোদে গা এলিয়ে কিছুটা বিশ্রামও করে নেয় হাঁসেরা। এদিকে ভদ্র পাখি পানকৌড়িরা বরাবরের মতো ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কিছু পুটি, চিংড়ি শিকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। একটা পানকৌড়ি হঠাৎ দেখতে পেল কিছু বক-সারস নদীর ঘাটের এক কোণে বসে কাঁদছে। বৃদ্ধ ঐ পানকৌড়িটি দৌড়ে তাদের কাছে গেল এবং কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। বক-সারস তাদের জঠরজ্বালার কথা বলল, কোনো শিকার ভাগ্যে না জোটার কথা শোনাল। পানকৌড়িটি চিন্তা করল, এর বিহিত একটাকিছু করতে হবে। সে সকল পাখিদের পুকুরের ঘাটে জরুরি তলব করল। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল মাছরাঙার ঝুলিতে আজ সবচেয়ে বেশি শিকার পড়েছে। পানকৌড়িটি ভাবল, অবশ্যই বক-সারসদের জন্য একটা স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে। সে সকলের মতামত নিয়ে একটা যুবক সারসপাখি এবং মাছরাঙার সাথে বিয়ে পাকাপাকি করে ফেলল। মাছরাঙার বিয়ে হলো সারসপাখির সাথে। মনের সুখে মাছরাঙার সাথে বসবাস করতে লাগল সারসপাখি।            
            
245 বার পড়া হয়েছে সর্বশেষ হালনাগাদ শনিবার, 24 অক্টোবর 2020 16:45
শেয়ার করুন
মাহতাব উদ্দিন

কবি মাহতাব উদ্দিন এম. এ ১৯৭৪ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন বেড়াইদেরচালা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্র গ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রধানবাড়ীর একজন সদস্য। তাঁর পিতা-মরহুম মৌলভী নূরুল ইসলাম এবং মাতা-আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম। ব্যক্তিগতজীবনে লেখক ২০০০ সালে পারভীন সুলতানার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তিনি দুই কন্যা এবং একমাত্র পুত্রের গর্বিত জনক। কবির একমাত্র একক কাব্যগ্রন্থ " স্বপ্নের জানালায়"। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ হলো- স্বপ্নিল স্বপ্নতরী, কবিতার বারান্দায়, ঝরাফুলের গন্ধ, শতফুল, স্বাধীনতার পঙক্তিমালা, একুশ আমার অহংকার এবং বিজয়ের উল্লাস।

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.