সোমবার, 09 ফেব্রুয়ারী 2015 20:08

হায়'রে দরবেশ, ......নিজের মেয়েকে করল শেষ।

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(1 ভোট)
                

.....হায়'রে দরবেশ,
......নিজের মেয়েকে করল শেষ।

গ্রামে এখনও কিছু মানুষ আছে যারা দরবেশ-এর উপর বিশ্বাস রাখে।কোন এক পল্লী এলাকার নাম ছিল গোলাপী গ্রাম,সেই গোলাপী গ্রামে এক দরবেশ বাবা ছিল,আর দরবেশ বাবাকে সবাই গোলাপী বাবা বলে ডাকত,এক নামে সবাই চিনত।গোলাপী গ্রামের গোলাপী বাবা মানুষদেরকে পানি পরা সহ বিভিন্ন ধরনের তাঁবিজ দিত।মানুষও কিছুটা উপকৃত হত।গোলাপী বাবার একটি সুন্দরী কন্যা ছিল।গোলাপী বাবা সপ্তাহে এক বার ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে কিছু অলৌখিক ঘটনা দেখত.
সে গুলো কিছু কিছু স্বপ্ন সত্য হত।

কোন এক রাতে গোলাপী বাবা সপ্নে দেখল,ভিন্ন এক গ্রামের নির্দিষ্ট একটি নারিকেল গাছ.সেই নারিকেল গাছ থেকে চলতি মাসের চাঁদের ২৯তারিখ একটি স্বর্ণের নারিকেল পড়বে।তবে শর্ত,যে কোন এক জন সুন্দরী রমণীকে একাকী উপস্তিত থাকতে হবে.আর সর্ব প্রথম সুন্দরী রমণীর নজর দিতে হবে এবং প্রথমে হাত লাগাতে হবে,না হয় নারিকেলটি স্বর্ণ না হয়ে নারিকেল থেকে যাবে।

হঠাত্‍,রাতের শেষ দিকে গোলাপী বাবার ঘুম ভেঙ্গে গেল।গোলাপী বাবা তাঁহার স্বপ্নের দেখা কথা গুলো ভাবতে লাগল,আর গোলাপী বাবা তাঁর বিবি সাহেবাকে ডেকে স্বপ্নের কথা খুলে বলল।বিবি সাহেবা চিন্তা করে তাঁহার স্বামীকে বলল,ভাবনার কি আছে?আমার সুন্দরী রমণীকে সেই নারিকেল গাছের নিচে সেই রাতে বসিয়ে রাখব।নিশ্চিত আমরা সেই স্বর্ণের নারিকেলটি পাব।গোলাপী বাবা বলল,ঔহ আমরা স্বর্ণের নারিকেলটি বিক্রি করে কোটি পতি হয়ে যাব।আমাদের সূখ গ্রামের সবাই দেখবে।গোলাপী বাবা এবং তাঁহার বিবি সাহেবার চোখে আর ঘুম হল না।

এবার সকাল হল।গোলাপী বাবা সেই দিনেই সেই ভিন্ন গ্রামের নারিকেল গাছটা দেখতে গেল,হ্যাঁ_গোলাপী বাবার স্বপ্ন দেখা সেই নারিকেল গাছ বরাবর আছে।আর তাই,গোলাপী বাবার স্বপ্ন পূরণের সুবিদার জন্য নারিকেল গাছের পার্শবর্তী একটি ঘর ভাড়া নিল।গোলাপী বাবা গোলাপী গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরে আসল।গোলাপী বাবার সহ-পরিবারের কাপড় চুপড় সব গুচিয়ে নিল।বড় একটি গাড়ীতে বাড়ীর কিছু মালামাল বর্তী করে সেই ভিন্ন গ্রামের ভাড়া বাসায় চলে গেল।

তাঁদের ভাড়া বাসায় দিন কাঁটতেছে ভাল।গোলাপী বাবার মনটা চটপট করতেছে,কখন চাঁদের সেই ২৯ তারিখ আসবে সে চিন্তায়।

দিন গণিয়ে এল।চাঁদের ২৮তারিখ শেষ।২৯তারিখ শুরু হল,এবার গোলাপী বাবা তাঁর সুন্দরী রমণী মেয়েকে ডেকে বলল,মা তোমাকে আজ এই নারিকেল গাছের নিচে থাকতে হবে,তবে ঘুমাতে পারবে না।মেয়ে জিঙ্গেস করল,আব্বু আমি একা থাকতে পারব না আমার ভয় লাগে।মেয়ে বলল,তবে কেন বাবা?গোলাপী বাবা বলল,আজ রাতে এই নারিকেল গাছ থেকে একটি স্বর্ণের নারিকেল পড়বে,আর সেই নারিকেলে তোমাকে প্রথম হাত লাগাতে হবে,না হয় স্বর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।তখন সুন্দরী মেয়ে বাবার কথায় রাজি হল।

রাতে মেয়েটি নারিকেল গাছের নিচে গিয়ে বসে থাকল,আর অপেক্ষা করতেছে।কখন সেই তাঁর আব্বাজান-এর স্বপ্ন দেখা স্বর্ণের নারিকেল পড়বে।

হঠাত্‍,বিষাক্ত এক সাপ এসে মেয়েটিকে ছোবল মেরে দিল.সেই বিষাক্ত সাপের বীষে মেয়েটির সর্ব শরীর যন্ত্রণা করতে লাগল।মেয়েটির পূরো শরীর বীষে কাল হয়ে গেল।মেয়েটি যন্ত্রণায় চটপট করতে করতে অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে পড়ে গেল।
অন্য দিকে নারিকেলটিও পড়ে গাছের কিছু দূরে গিয়ে স্হতির হল।

এখন,ফজরের আজানের আগে আগে গোলাপী বাবা হাতে একটি হারিকেন নিয়ে গাছের দিকে আসতেছে।হঠাত্‍ করে সেই স্বর্ণের নারিকেলটি গোলাপী বাবার চোখে পড়ে গেল,সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণের নারিকেলটি নারিকেলেই হয়ে গেল।গোলাপী বাবার মনে হচ্ছে হয়ত নারিকেলের বেতর স্বর্ণ থাকতে পারে,এই জন্য গোলাপী বাবা নারিকেলটি ভেঙ্গে দেখতে ফেল নারিকেলের বেতর পানিও নাই।

এবার গোলাপী বাবা তাঁর মেয়েকে খুজতে লাগল,আর দেখতে ফেল মেয়েটি মাঠিতে পড়ে আছে।গোলাপী বাবা মনে করল হয়ত তাঁর মেয়ে ঘুমাচ্ছে,মেয়েকে ডাকল তবুও মেয়ের ঘুম ভাঙ্গল না।গোলাপী বাবা তাঁর মেয়ের কাল চেহেরা দেখে বুঝতে পারল,যে তাঁর মেয়েকে বিষাক্ত সাপে কামড় দিয়েছে।

গোলাপী বাবা তাঁর মেয়েকে এক ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে নিল।
ডাক্তার সাহেব কোন রকম সাপের বীষ বাহির করতে সক্ষম হল।তবে,গোলাপী বাবার মেয়ে মানসিকতা হারিয়ে পাগল হয়ে গেল।
মেয়েটি পাগল জীবন যাপন করতেছে।

অন্য দিকে গোলাপী গ্রামের লোক জন গোলাপী বাবার স্বপ্নের কথা গুলো জেনে গেল এবং গোলাপী বাবার মেয়ে পাগল হওয়ার কথাও জেনে গেল।

এখন বাবাকে দেখলে সবাই বলে,
"অ বাবা গোলাপী"
"কোথায় এখন পালাবী"

গোলাপী বাবার ছেলে সম্পর্কের লোকেরা দুষ্টামি করে বলে,
"অ গোলাপী বাবা"
"এইবার খাইবা"
"বাঘের থাবা"
"সাথে মজা কি বুঝবা"

আর নাতী সম্পর্কের লোকেরা বলে,
"ইয়া দাদা ভাই গোলাপী"
"খুলে ফেল পান্জাবী"

গত রাতে স্বপ্নে দেখলাম।
স্বপ্নটি কেমন হল?

জামশেদ(বদরী)
ওমান থেকে.

7863 বার পড়া হয়েছে সর্বশেষ হালনাগাদ বৃহষ্পতিবার, 27 আগষ্ট 2020 17:31
শেয়ার করুন
নুরুন্নবী জামশেদ

আমি মুসলিম।মুসলিম ঘরে আমার জন্ম। নাম:-মোহাম্মদ নুরুন্নবী বিন হাছান (জামশেদ), পিতার নাম:-মোহাম্মদ হাছান আলী, মায়ের নাম:-রাশেদা খানম। জন্ম তারিখ:-০২/০৪/১৯৯২ ইং, গ্রাম:-ছনুয়া পাড়া, ডাক+ইউনিয়ন:-বদর খালী(৪৭৪২), উপজেলা:-চকরিয়া।, জেলা:-কক্সবাজার। শিক্ষাঙ্গণ:-বদরখালী এম,এস ফাজিল (ডিগ্রী)মাদ্রাসা। মোবাইল নাম্বার:০০৯৬৮-৯৩৩২১৬১০ ২০১১ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ড হতে দাখিল(GPA=4.56)শেষ করি। ২০১৩ সালের শেষ দিকে আলিমের টেষ্ট পরীক্ষা শেষ করি,ফাইনাল দেওয়ার পূর্বে,.. ১৩/০১/২০১৩ ইং তারিখ আমি আমার জন্ম ভুমি প্রাণে দেশ,বাংলাদেশ থেকে প্রবাসের উদ্দেশ্যে ওমান চলে আসি।মনের যত কথা কিছু লেখি।

এই বিভাগে আরো: « সন্দেহ। নাম প্রকাশ। »

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.