মঙ্গলবার, 29 সেপ্টেম্বর 2020 15:25

হৃদয়ের আর্তনাদ - পর্ব ৩ নির্বাচিত

লিখেছেন
লেখায় ভোট দিন
(1 ভোট)
                হৃদয়ের আর্তনাদ
ছোট গল্প পর্ব ৩
.
আশরাফুল সন্ধ্যার আগে, শ্রমিক সেজে, নাম অজানা মেয়েটির বাড়ির সামনে যায়। সেখানে পুকুর ঘাটের  পাশে একজন বয়স্ক মানুষ চেয়ারে বসে ছিল। আশরাফুল সেখানে উপস্থিত হয়ে,সালাম জানায়। বয়স্ক ব্যক্তি সালামের জবাব দিয়ে..
-তোমাকে তো চিনলাম না।
-আমারে চিনবেন না, আমি কাম (কাজ) করার জন্য এই এলাকায় আইছি। এখনও তো কোন কাজ পাইনি। আজকের রাতটা আমাকে থাকার জাগা (স্থান) দিন কালকে চলে যাব। দূরের মানুষ আমারে তো কেউ চিনবে না। এখন কই যাই, কই থাকি। আর যদি আপনার বাড়িতে কোন কামের লোক লাগে, আমারে রাখতে পারেন। আশরাফুল কথাগুলো বিরতিহীন ভাবে বলে যাচ্ছে। বয়স্ক ব্যক্তি নিরবে শুনে জানতে চায়..
- তোমার বাড়ি কোথায়? 
-বিলদেশে
- বিল দেশ মানে?
- হ, চলনবিল চিনেন, সেই খানে
- ও বনলতার দেশ?
-না, না, নাটোর
 হুম, তো লেখাপড়া কিছু জানো?
হ জানি, প্রাইমারী স্কুলে দুই চার দিন গেছিনু, একদিন স্যার খুব মারছিল। পরে আর যাইনি। পড়তে পারি না, নিজের নামডা লেখতে পারি।
- মৃদু হেসে তোমার নামটা কী?
-আশরাফুল মাথা চুলকায় আর বলে, আমার নাম মফিজ, কেউ কেউ কয় মফিজ পাগল
- তুমি কি কাজ করতে পারো
-আমি কম বেশি সব কাম করতে পারব। দুই দিন কাম করার পর বেতন দিয়েন।
-বয়স্ক লোকটি মনে মনে ভাবে ছেলেটি সহজ সরল। দেখা যাক কোন কাজে লাগানো যায় কী না? মফিজ তোমাকে রাখতে পারি তবে একদিন কাজ করেই চলে যাবে তা কিন্তু হবে না। কমপক্ষে একমাস থাকতে হবে। আমার দুজন কাজের মানুষের মধ্যে একজন আগামীকাল চলে যাবে, আরেকজন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে থাকতে হবে। বাড়ির সব ধরনের কাজ করতে হবে। বিশেষ করে পুকুরের খাবার দেওয়া প্রধান।
-জ্বি খালুজান ( মনে মনে ভাবতে থাকে অনামিকা  তোমাকে পাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করে এসেছি, হাজার শর্ত মেনে নিয়ে, জয়করে নেব..... )
-বেশ তবে চলো তোমার থাকার ঘর দেখিয়ে দেই। খালুজানের সাথে মফিজ বাড়ির ভেতরে যায়, একটি রুম দেখায়, এটা তোমার রুম। রুমটিতে আছে বিছানাসহ একটি চৌকি, চেয়ার, টেবিল ও অনেকগুলো বস্তাভর্তি মাছের খাবার। রুমটা দেখে মফিজ মনে মনে খুশি হয়। কারণে অকারণে বাড়ির ভেতর আসতে পারবে। মনে হয় বাড়িতে লোক সংখ্যা খুব বেশি নয়। খালাম্মার সাথে পরিচয় হয়। একজন মহিলার বেশভূষা দেখে মনে হয় কাজের মহিলা। ও দুজন কাজের ছেলে।আর কে আছে তাৎক্ষণিক  ভাবে জানা যায় না, আর কে আছে। তবে যাকে পাওয়ার আশায়, ছদ্মবেশ ধারণকরা  সেই মেয়েটির সাথে তখনো দেখা হয়নি। খালুজান বসে বসে টুকটাক কাজের হুকুম করে, উচ্চ শিক্ষিত গরিবের সন্তান মফিজ। গ্রামে তার বসবাস কমবেশি কাজ কর্ম করার অভ্যাস তার আছে। নিজের কর্ম দক্ষতা প্রকাশ করতে খালুজানের হুকুম অতি সতর্কভাবে, পালন করার চেষ্টা করে যায়। রাতের খাবার সময় খালুজান তার বাড়ির সকল পুরুষ মানুষকে সাথে করে বারান্দায় বসে খাবার খায়। তখনো সন্ধান পায় না সেই কাংকিত মেয়েটির। রাতে ঘুমানানো সময় আশরাফুলের চোখে ঘুম আসে না। চিন্তা করে তবে কী সে ভূল কোন বাড়িতে এসেছে? না'কী এ বাড়ির অতিথি ছিল? হাজারো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে সে রাতটা পাড়ি দেয়।(চলবে...)            
            
297 বার পড়া হয়েছে সর্বশেষ হালনাগাদ শনিবার, 03 অক্টোবর 2020 13:36
শেয়ার করুন
মোহাম্মাদ আজিজুল হক

মোহাম্মাদ আজিজুল হক ১৯৮৬ সালে ২ অক্টোবর, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের নন্দকুজা নদীর তীরে, মধ্যবিত্ত এক মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্ব মো. আব্দুস সাত্তার, মাতা মোছা. জয়নব বেগম (পরি)- এর চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। শৈশব থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর ছিলো ব্যাপক অনুরাগ। প্রিয় নদী নন্দকুজার ঢেউয়ের তালে, জোৎস্নাস্নাত রাতে ছন্দ খুঁজে পান। দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'প্রেমাঞ্জলি' প্রকাশিত হয়। তারপর দীর্ঘ সময় সাতিত্য চর্চা থেকে দূরে থাকলেও ২০১৫ সালে, পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন। ২০১৬ সালে,একুশে বই মেলাতে তাঁর ছোট গল্প 'দ্বীপান্তর' ২০১৭ সালে একুশে বই মেলায় 'সবুজের বুকে লাল' ও 'আলো ছায়া' কাব্যগ্রন্থ (যৌথভাবে) প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালে অমর একুশে বই মেলাতে একগুচ্ছ গল্পনিয়ে 'স্বপ্নদেবী' প্রকাশিত হয়। বর্তমানে তার গবেষণা গ্রন্থ, নিজ জেলা নাটোর নিয়ে 'ঐতিহ্যের লীলাভূমি নাটোর' উপন্যাস 'আমি হেরে গেলাম' প্রবন্ধ 'এসো দুশ্চিন্তা ও বেকারত্বহীন জীবন গড়ি' প্রকাশের অপেক্ষায়। তিনি লেখালেখির সঙ্গে নিবিড় ভাবে জড়িত। তার লেখায় চিরায়ত গ্রামবাংলার সৌন্দর্য ফুটে উঠে, শৈল্পীক শব্দের কাঁরুকাজে। ডিপ্লোমা ইন ডেন্টাল কোর্স ও বি এস এস ডিগ্রী শেষ করে, মানব সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা সেবায় তিনি নিয়োজিত আছেন। খেয়ালী মনের মানুষ লেখালেখির মাঝে খুঁজে পান জীবনের আস্বাদন। দাম্পত্য জীবনে তিনি এক সন্তানের (রিফাতুজ্জামান ইমন)-এর জনক। বর্তমান বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। আশা করি তার লেখা পড়ে পাঠক মুগ্ধ হবেন।

3 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Make sure you enter all the required information, indicated by an asterisk (*). HTML code is not allowed.